জুমার দিনে যে বিশেষ আমলটি বেশি বেশি করার নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্বনবী (সা.)
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে পবিত্র ও ফজিলতময় দিন জুমাবারে একটি বিশেষ আমল বেশি বেশি আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। পবিত্র হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, জুমার দিন ও জুমার রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত বরকতময় একটি ইবাদত। জুমার দিনে উম্মতের পঠিত দুরুদ সরাসরি প্রিয় নবীর দরবারে পেশ করা হয় এবং এর বিনিময়ে অগণিত রহমত ও গুনাহ মাফের সুসংবাদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আত্মিক উন্নতি, মানসিক প্রশান্তি ও সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে জুমার দিনে এই মহিমান্বিত আমলটি পালন করে থাকেন।
জুমার দিনে দরুদ পাঠের প্রধান ফজিলত ও তাৎপর্য
পবিত্র হাদিসে জুমার দিন দুরুদ শরিফ পাঠের বেশ কিছু বিশেষ ফজিলত ও নির্দেশনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবীর দরবারে দুরুদ পেশ: জুমার দিনে পঠিত দুরুদ শরিফ ফেরেশতাদের মাধ্যমে সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বিশেষ রহমত লাভ: হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।
গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি: বেশি বেশি দুরুদ পাঠের মাধ্যমে বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং প্রাত্যহিক ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি ও গুনাহ মাফ হয়।
এক নজরে জুমার দিনের বিশেষ আমল
প্রধান আমল: প্রিয় নবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পাঠ করা
সময়কাল: বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে জুমার দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত
মূল ফজিলত: সরাসরি নবীর দরবারে দুরুদ পৌঁছানো, ১০টি রহমত লাভ ও মর্যাদা বৃদ্ধি
উত্তম সময়: জুমার সালাতের পূর্বে ও পরে এবং আসর থেকে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়
হাদিসের আলোকপাত ও আমলের উত্তম সময়
সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনটি সর্বোত্তম। সুতরাং এ দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করো; কেননা তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।" বিশেষ করে জুমার দিন আসরের সালাতের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টিকে দোয়া কবুল ও দুরুদ পাঠের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রাত্যহিক জীবনে আমল চর্চার আহ্বান
জুমার দিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত যেমন—গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা এবং দ্রুত মসজিদে যাওয়ার পাশাপাশি বেশি বেশি দুরুদ পাঠের জিকির জারি রাখার জন্য ইসলামি চিন্তাবিদগণ বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। প্রাত্যহিক জীবনে এই আমলের চর্চা মুমিনের ঈমানি শক্তি ও আত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে।