| বঙ্গাব্দ

স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনড় অঙ্গীকার থাই মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-09-2026 ইং
  • 12054 বার পঠিত
স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনড় অঙ্গীকার থাই মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের
ছবির ক্যাপশন: স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে

 স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনড় অঙ্গীকার থাই মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের


থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাগুলোতে একটি পৃথক ও স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অনড় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে থাই মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী। অঞ্চলটির মূল বিদ্রোহী সংগঠন ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল’ (BRN)-এর নীতি-নির্ধারণী প্রধানেরা এক বিবৃতির মাধ্যমে এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করেছে। থাই সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক সংকটকে আবারও চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত অঞ্চলে কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইয়ালা, পাত্তানি এবং নারাথিওয়াত প্রদেশে সত্তরের দশক থেকেই এই সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলে আসছে।

শতকরা ৯০ ভাগ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর দেশ থাইল্যান্ডের এই তিনটি দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ মূলতঃ মালয়-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের দিক থেকে পৃথক হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের দীর্ঘকাল ধরে ব্যাংককের কেন্দ্রীয় শাসন দ্বারা বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করে আসছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বিআরএন-এর দাবি, ঐতিহাসিক ‘পাত্তানি রিয়া’ (Pattani Raya) অঞ্চলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে এবং একটি স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতেই তারা এই সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মূল প্রধান দিকসমূহ

দক্ষিণ থাইল্যান্ডের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রধান নীতিগত বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্রের দাবি: মূল ভূখণ্ড থাইল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পাত্তানি অঞ্চল নিয়ে পৃথক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন।

  • শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান: স্বায়ত্তশাসনের বিনিময়ে অস্ত্র সমর্পণের থাই সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সামরিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া।

  • উচ্চমাত্রার গেরিলা হামলা: সরকারি ফাঁড়ি, পুলিশ স্টেশন এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে বোমা ও অতর্কিত হামলার কৌশল।

এক নজরে থাই মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী সংকট

বিষয়বিবরণ
প্রধান বিদ্রোহী সংগঠনবারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (BRN)
আক্রান্ত অঞ্চলইয়ালা, পাত্তানি, নারাথিওয়াত ও সোংখলা (দক্ষিণ থাইল্যান্ড)
মূল লক্ষ্যপৃথক স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র গঠন ও পাত্তানি অঞ্চলের স্বাধীনতা
সংঘাতের প্রকৃতিসশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধ ও ব্যাংককের কেন্দ্রীয় শাসনের বিরোধিতা
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্ত প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের এই নতুন অঙ্গীকারে ব্যাংকক ও প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়া বড় ধরনের ধাক্কা খেল। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সেনা অভিযান জোরদার করেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই আদর্শিক লড়াইকে স্তব্ধ করা সম্ভব হয়নি। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই অনমনীয় অবস্থানের পর থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও সামরিক নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency