প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনে চার্জে বসিয়ে সকালে উঠে চার্জার খোলা—আমাদের অনেকের কাছেই এটি একটি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ফোনের ব্যাটারি ১০০ শতাংশ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও যদি সেটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের সংযোগে আটকে থাকে, তবে কি ব্যাটারির কোনো ক্ষতি হয়? এই প্রশ্ন নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মনে নানা সংশয় রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের যুগে এই ধারণার পেছনে কতটা সত্যতা রয়েছে, তা জেনে নেওয়া যাক।
বর্তমানকালের স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন (Lithium-ion) অথবা লিথিয়াম-পলিমার (Lithium-polymer) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফোন পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে এর আধুনিক চার্জিং সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কারেন্ট সরবরাহ কমিয়ে দেয় অথবা মূল চার্জিং প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর পরেও ব্যাটারিতে একইভাবে লাগাতার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ঢুকতে থাকে না। সুতরাং, রাতভর চার্জে রাখলেই ফোন ‘ওভারচার্জ’ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাবে—এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।
তাত্ক্ষণিক ওভারচার্জ না হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটারিকে ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় আটকে রাখা খুব একটা আদর্শ নয়। লিথিয়াম-ভিত্তিক ব্যাটারিতে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ ধরে রাখলে এর ভেতরে রাসায়নিক অবক্ষয়ের হার ধীরে ধীরে বেড়ে যেতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা বা ব্যাকআপের ওপর পড়ে।
ফলে কয়েক মাস বা বছর নিয়মিত ব্যবহারের পর দেখা যায়, ফোনের চার্জ আগের তুলনায় দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখার আসল ঝুঁকি তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণ বা ওভারচার্জিং নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য কিছুটা দ্রুত কমে যাওয়া।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ব্যাটারির আয়ু কমার ক্ষেত্রে তাপ বা গরম হওয়া অন্যতম প্রধান কারণ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।
বিছানা বা বালিশে নয়: কখনো ভুলেও ফোন বালিশ, কম্বল বা বিছানার নিচে রেখে চার্জ করা উচিত নয়। এসব স্থানে চারপাশের বাতাস চলাচল বন্ধ থাকায় তাপ সহজে বের হতে পারে না। তাই সবসময় ফোন শক্ত, সমতল ও খোলা জায়গায় রেখে চার্জ দেওয়া নিরাপদ।
ব্যাটারি প্রোটেকশন ফিচার ব্যবহার: ব্যাটারির আয়ু দীর্ঘস্থায়ী করতে এখন প্রায় সব স্মার্টফোনেই ‘অপটিমাইজড চার্জিং’, ‘অ্যাডাপটিভ চার্জিং’ কিংবা ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’-এর মতো বিশেষ ফিচার দেওয়া থাকে। এগুলো ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে দীর্ঘক্ষণ ফোনকে ১০০ শতাংশে আটকে না রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ নিয়ন্ত্রণ করে।
১. সবসময় চার্জ দেওয়ার সময় ফোন খোলা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখুন।
২. ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে কিছুক্ষণ এর ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
৩. সবসময় মানসম্মত ও আসল চার্জার বা কেবল ব্যবহার করুন।
৪. ফোনে ‘ব্যাটারি প্রটেকশন’ বা ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’ সুবিধা চালু রাখুন।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি মূলত একটি ক্ষয়যোগ্য (Consumable) উপাদান। যতই যত্ন নেওয়া হোক না কেন, সময়ের সঙ্গে এর সক্ষমতা কিছুটা কমবেই। শুধু রাতভর চার্জে ফেলার কারণেই ব্যাটারি নষ্ট হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। মূলত তাপমাত্রা, ব্যবহারের ধরন এবং ব্যাটারির নিজস্ব বয়সের ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |