প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ছোট শিশুদের স্বভাবসুলভ আচরণে চঞ্চলতা ও দুষ্টুমি থাকা স্বাভাবিক। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো কোনো শিশুর মধ্যে অতিরিক্ত রাগ, জেদ কিংবা মারমুখী ও আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দিতে পারে। চার বছরের একটি শিশুকে নিয়ে এমনই চরম বিপাকে পড়া এক মায়ের প্রশ্নের জবাবে শরিয়তসম্মত কার্যকরী আমল, দোয়া এবং অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন গাজীপুর মিরাশপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি সিরাজুল ইসলাম।
শিশুর যেকোনো ধরনের বদনজর, ক্ষতিকর প্রভাব বা চঞ্চলতা ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর দুই প্রিয় দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য একটি বিশেষ দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। সকাল ও সন্ধ্যায় শিশুর মাথায় হাত রেখে এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে—
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতি আল্লাহিত তাম্মাতি, মিন কুল্লি শায়তানি ওহাম্বাতি, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্বাতি। অর্থ: “আমি তোমাকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয়ে সমর্পণ করছি সব ধরনের শয়তান, ক্ষতিকর প্রাণী এবং অনিষ্টকারী বদনজর থেকে।”
এর পাশাপাশি নিয়মিত সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি এবং সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে শিশুর শরীরে ফুঁ দেওয়া অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
সন্তানকে রাগী ও জেদি স্বভাব থেকে ফিরিয়ে এনে সৎ, শান্ত ও চোখের শীতলতা হিসেবে পাওয়ার জন্য মাতা-পিতার নিয়মিত দোয়া করা উচিত। বিশেষ করে ফরজ নামাজের পর পবিত্র কুরআনের এই চমৎকার দোয়াগুলো পড়া যেতে পারে—
সুরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াত:
“রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া ধুররিয়্যাতিনা কুর্রাতা আ‘ইউয়ুনিওঁ ওয়াজআলনা লিলমুত্তাকিনা ইমামা।” (অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্য থেকে আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য অনুসরণযোগ্য করুন।)
সুরা ইবরাহিমের ৪০ নম্বর আয়াত:
“রব্বিজআলনি মুকিমাস সালাতি ওয়া মিন ধুররিয়্যতি রব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দুআ।” (অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও; হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দোয়া কবুল করুন।)
শিশুর আচরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কেবল দোয়া-আমলের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং তার সঙ্গে বাবা-মায়ের আচরণ কেমন হওয়া উচিত সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। ইসলাম সবসময় শিশুদের প্রতি কোমল ও স্নেহশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।”
তাই শিশুকে নিয়মিত আদর করা, জড়িয়ে ধরা, কপালে চুমু দেওয়া এবং ভালোবাসার কথা প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি, যা শিশুর মানসিক নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করে। শিশু যখন অতিরিক্ত রেগে যায়, তখন তার সঙ্গে পাল্টা চিৎকার বা মারধর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখতে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে শান্তভাবে সামলাতে হবে।
শিশুরা বড়দের আচার-আচরণ ও চারপাশের পরিবেশ খুব দ্রুত অনুকরণ করে। তাই ঘরোয়া পরিবেশে অতিরিক্ত চিৎকার-চেঁচামেচি, ঝগড়া কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার কলহ শিশুর আচরণেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘরের পরিবেশ যতটা সম্ভব শান্ত, আনন্দময় ও স্নেহপূর্ণ রাখা উচিত।
একই সঙ্গে শিশুর অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং মারমুখী বা উত্তেজনাপূর্ণ কার্টুন দেখার অভ্যাস কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং শিশুকে খেলাধুলা, গল্প বলা কিংবা পরিবারের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতে হবে। শিশু যখনই কোনো ভালো আচরণ করবে, তখন তার প্রাণ খুলে প্রশংসা করতে হবে এবং ছোটখাটো উপহার বা উৎসাহ দিয়ে তাকে ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করতে হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |