প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ চুকে গেছে। ঘণ্টা তিনেক আগেও যিনি ছিলেন আলবিসেলেস্তেদের বর্তমান, তিনি এখন এক সোনালী অতীত। তবে নিজের বিদায়ের দিনে আর্জেন্টিনার অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ—এই তিন কালকে এক বিন্দুতে এসে মিলে যেতে দেখলেন ফুটবলের এই বরপুত্র। বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচের ৬১ মিনিটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা যেন নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলল আর্জেন্টিনার সোনালী যুগের ধারাবাহিকতার সেই গল্প।
আর্জেন্টিনা ফুটবলের ‘অতীত’ তো স্বয়ং লিওনেল মেসি নিজেই। কিন্তু ‘ভবিষ্যৎ’ কে হবেন—তা নিয়ে এই আন্তর্জাতিক উইন্ডো শুরুর আগেও কিছুটা সংশয় ও আলোচনা ছিল। পাউলো দিবালা, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো কিংবা থিয়াগো আলমাদাদের মতো প্রতিভাবানদের নিয়ে নানা জল্পনা চললেও, এবারের এই ফিফা উইন্ডোয় নিজের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দিয়ে সমস্ত সন্দেহ এক ঝটকায় দূর করে দিয়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ। এই উইন্ডোয় তিন গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন আরও একটি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এভাবে সমানতালে গোল করা ও করানোর এমন দুর্দান্ত কীর্তি অতীতে কেবল মেসি আর ডিয়েগো ম্যারাডোনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছিল। আর সে কারণেই হয়তো ম্যাচের পর গোলরক্ষক এমি মার্তিনেজ নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তাকে অভিহিত করেছেন ‘ভবিষ্যৎ নাম্বার ১০’ হিসেবে।
প্রায় দুই বছর হতে চলল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছে নিকো পাজের। তবে মেসির সঙ্গে একই দলে থেকেও এতদিন তাদের একসঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছিল মোটে ৫৬ মিনিট। কাতার বিশ্বকাপের আগে বলিভিয়ার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই মেসিকে দিয়ে গোল করিয়ে চমকে দিয়েছিলেন পাজ। তবে গোল করার সহজাত ক্ষমতা তার কতটা রয়েছে, সেটির প্রমাণ দেওয়া যেন বাকি ছিল। বেনিনের বিপক্ষেই সেই প্রমাণটি দারুণভাবে রাখলেন এই তরুণ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের খেলায় সবাই যখন কেবল মেসিকে খুঁজেছেন—লাউতারো মার্তিনেজ থেকে শুরু করে হুলিয়ান আলভারেজ পর্যন্ত প্রত্যেকেই বল পেয়ে লেজেন্ডকে পাস বাড়াতে চেয়েছেন, তখন ভিন্ন পথে হেঁটেছেন পাজ। বক্সের ঠিক বাইরে ডান পাশটা চিরকালই মেসির অতি পরিচিত ও প্রিয় ‘জোন’ হিসেবে পরিচিত। সেখানে বল পেয়ে অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজাসুজি দূরের পোস্টে দুর্দান্ত এক শট নিলেন পাজ।
বেনিনের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত বাঁক নেওয়া বলটি গিয়ে সরাসরি আশ্রয় নেয় জালের বাঁ পাশের ওপরের কোণায়—একেবারে নিখুঁত ‘টপ বিন’! মেসি তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যেখানেই খেলেছেন, এই ধরনের গোলকে একরকম শিল্পের রেওয়াজে পরিণত করেছিলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে মেসির সেই বিখ্যাত গোলটির কথাই যেন মনে করিয়ে দিল পাজের এই শট। অবিকল সেই পরিস্থিতি না হলেও, নিখুঁত দক্ষতায় সেটি করে দেখালেন পাজ। ‘অতীতের’ পা থেকে আসা ট্রেডমার্ক শটের আদলে আর্জেন্টিনার ‘ভবিষ্যৎ’ যেন ফুটিয়ে তুললেন তার উত্তরসূরি!
নিকো পাজের পায়ের ওই দুর্দান্ত গোলটির পর যেন মেসিও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন; তার বুক থেকে নেমে গেছে এক মস্ত বড় পাথর। তরুণ এই তারকা মেসিকে বুঝিয়ে দিলেন, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সির ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল ও নিরাপদ হাতের মুঠোয় ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি। এক বিন্দুতে এসে মিলে গেল আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের তিন কাল—অতীতের মহাকাব্য, বর্তমানের বিদায়বেলা আর ভবিষ্যতের উদ্দীপ্ত প্রতিশ্রুতি।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |