| বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা দেওয়া কি সুদ? কী বলছে শরিয়ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-10-2026 ইং
  • 3696 বার পঠিত
বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা দেওয়া কি সুদ? কী বলছে শরিয়ত
ছবির ক্যাপশন: বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা দেওয়া কি সুদ

বিদ্যুৎ বিল দেরিতে দিলে জরিমানা আদায় কি সুদের শামিল? ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো যে অতিরিক্ত অর্থ বা বিলম্ব মাশুল (জরিমানা) আদায় করে থাকে, তা শরিয়তসম্মত নয় বলে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন দেশের প্রখ্যাত ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও ফকীহগণ। বিলম্বে বিল পরিশোধের অজুহাতে আদায় করা এই অতিরিক্ত অর্থ বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো যদি নিজেদের ব্যবসায়িক আয় হিসেবে গ্রহণ বা ভোগ করে, তবে তা সরাসরি সুদের (রিবা) অন্তর্ভুক্ত হবে বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানীর ঢাকা বিমানবন্দর এলাকার স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া বাবুস সালাম’-এর প্রখ্যাত মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের সাম্প্রতিক এক প্রশ্নের জবাবে ইসলামি ফিকহের আলোকে এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

বিলম্ব ফি বা জরিমানা কেন সুদের পর্যায়ে পড়ে?

ফতোয়ায় মুফতি জাওয়াদ তাহের ব্যাখ্যা করেন, একজন গ্রাহক কর্তৃক বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর তার নামে যে বিদ্যুৎ বিল তৈরি হয়, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে মূলত একটি ‘কর্জ’ বা ঋণ। আর ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণে চুক্তিবদ্ধভাবে বা বাধ্যতামূলক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্ট সুদ।

জাহেলিয়াতের যুগে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে ঋণদাতা ব্যক্তি ঋণগ্রহীতাকে বলত, “হয় পাওনা পরিশোধ করো, নয়তো সময় বাড়ানোর বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ (সুদ) প্রদান করো।” ইসলাম এই নীতিকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করেছে।

ফিকহের সর্বজনসম্মত প্রসিদ্ধ মূলনীতি উল্লেখ করে ফতোয়ায় বলা হয়:

‘কর্জের (ঋণের) বিপরীতে শর্তযুক্ত যেকোনো অতিরিক্ত লাভ বা অর্থ গ্রহণই সুদের অন্তর্ভুক্ত।’

কাজেই বিদ্যুৎ বিল দেরিতে দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে বিতরণকারী সংস্থাগুলো নিজেদের পকেটে বা আয় হিসেবে রেখে দিলে তা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বৈাধ হবে না।

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিলে গড়িমসি করা মারাত্মক জুলুম

তবে জরিমানাকে নাজায়েজ বলা হলেও গ্রাহকদের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিল দিতে দেরি করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। ফতোয়ায় মুসলিম গ্রাহকদের কঠোরভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে দেরি করা মারাত্মক গুনাহ ও অন্যায়।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনামূলক হাদিস উদ্ধৃত করা হয়:

‘সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা চরম জুলুম।’

— সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

বাধ্য হয়ে জরিমানা দিলে কী করণীয়?

ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো গ্রাহক বাধ্য হয়ে, অসচ্ছলতার কারণে বা অনিচ্ছাকৃত কোনো জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে বিল দিতে না পারেন এবং অতিরিক্ত জরিমানা এড়ানোর কোনো আইনি সুযোগ না থাকে, তবে বাধ্যবাধকতার কারণে সেই জরিমানা পরিশোধ করলে গ্রাহক গুনাহগার হবেন না; বরং অন্যায্যভাবে সেই অর্থ আয় হিসেবে গ্রহণকারী সংস্থা এর দায় বহন করবে। তবে গ্রাহকদের উচিত এ জাতীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া থেকে যথাসম্ভব সতর্ক থাকা।

শরিয়তসম্মত গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া অপরের সম্পদ অন্যায্যভাবে ভোগ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ উল্লেখ করে ফিকহের মৌলিক গ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে ফতোয়াটি সমাপ্ত করা হয়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency