প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছর ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক ড্যাশবোর্ড থেকে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ জন রোগী। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হলো ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এখনো যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
চলতি বছরের মোট ৩০৭ জন মৃতের তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, মৃতদের মধ্যে ৫১.৩ শতাংশ নারী এবং ৪৮.৭ শতাংশ পুরুষ রয়েছেন। অর্থাৎ চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে নারীদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
চলতি বছর মাসওয়ারি ডেঙ্গু মৃত্যুর চিত্র নিম্নরূপ:
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি: প্রতি মাসে ২ জন করে মোট ৪ জন
মার্চ ও এপ্রিল: ০ জন (শূন্য)
মে মাস: ১ জন
জুন মাস: ১৩ জন
জুলাই মাস: ৩৬ জন
আগস্ট মাস: ৪৩ জন
সেপ্টেম্বর মাস: ১৪৮ জন (সবচেয়ে ভয়াবহ মাস)
অক্টোবর (চলতি মাস): এখন পর্যন্ত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন (যার মধ্যে গত ৬ অক্টোবর এক দিনেই রেকর্ড সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল)।
রোগীদের ভর্তির হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছিল। সেপ্টেম্বরে এক মাসে রেকর্ড ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। আর চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনেই ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৮২২ জন।
এর আগের মাসগুলোর হিসাব অনুযায়ী:
জানুয়ারি: ১,০৮১ জন
ফেব্রুয়ারি: ৪০৯ জন
মার্চ: ৩৫৩ জন
এপ্রিল: ৬৪০ জন
মে: ৭১৪ জন
জুন: ২,৯০৭ জন
জুলাই: ৯,২০৬ জন
আগস্ট: ২০,৫৩৬ জন
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ছাড়পত্রপ্রাপ্তদের মধ্যে মোট ৯৫ হাজার ৩৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে ডেঙ্গুর এই লাগামহীন বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারা দেশে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |