| বঙ্গাব্দ

চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-10-2026 ইং
  • 20216 বার পঠিত
চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট
ছবির ক্যাপশন: চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না:

বিধি সংশোধন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্জিত সুবিধা কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

চাকরিতে প্রবেশের সময় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর যে অধিকার ও পদোন্নতির আইনি যোগ্যতা থাকে, পরবর্তীতে সেবা বিধিমালা বা প্রবিধানমালা সংশোধন করে তা কোনোভাবেই কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে সুনির্দিষ্ট রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, সময়ের ও যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রবিধানমালা সংশোধন করার পূর্ণ ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের থাকলেও, তা ভূতের মতো বা ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospectively) কার্যকর দেখিয়ে কর্মরতদের আগের অর্জিত আইনি অধিকার-সুবিধা বাতিল বা সংকুচিত করা যাবে না।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উপসহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতিসংক্রান্ত একটি রিট আবেদন নিষ্পত্তিসংক্রান্ত মামলায় (‘মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদার ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র’) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। সম্প্রতি ১৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়টির মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিম।

মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট ও বিরোধ

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদারসহ মোট সাত জন কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়।

  • বারি প্রবিধানমালা, ২০১১ অনুযায়ী: উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা ও সার্ভিস সম্পন্ন হলে শতভাগ (১০০%) পদোন্নতির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে উন্নীত করার স্পষ্ট বিধান ছিল। রিটকারী সাত প্রকৌশলীই ২০২১ সালের আগেই এই পদোন্নতির পূর্ণ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলেন।

  • সংশোধিত প্রবিধানমালা, ২০২১-এর আঘাত: ২০২১ সালের ৯ মার্চ সরকার ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০২১’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এতে সিভিল শাখার সহকারী প্রকৌশলী পদের শতভাগ কোটা বাতিল করে ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নতুন নিয়োগের নিয়ম করা হয়। অন্যদিকে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল শাখার শতভাগ পদোন্নতি কোটা অপরিবর্তিত রাখা হয়।

প্রবিধানমালার এই বৈষম্যমূলক রদবদলে নিজেদের অর্জিত পদোন্নতির অধিকার হারিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৌশলীরা।

আদালতে আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ। তিনি আদালতকে বলেন, নতুন বিধিমালা প্রবর্তনের আগেই রিটকারীরা পদোন্নতির সমস্ত আইনি শর্ত পূরণ করেছিলেন। ফলে পরবর্তীতে প্রবিধান সংশোধন করে তাদের প্রতিকূলে পদোন্নতির সুযোগ হ্রাস করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও বৈষম্যমূলক।

অন্যদিকে বারির পক্ষে আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন যুক্তি দেন যে, পুরোনো ২০১১ সালের প্রবিধান রহিত করে ২০২১ সালের নতুন বিধান চালু করা হয়েছে। সেবা জোরদার করতে সরাসরি বিএসসি প্রকৌশলী নিয়োগের এই নতুন বিধান আনা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজ বিন ইউসুফ ও আক্তার হোসেন মো. আবদুল ওহাব।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও মূল নির্দেশনা

দুই পক্ষের দীর্ঘ শুনানি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন:

"প্রবিধান সংশোধনের আগেই যারা পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত শর্তাবলি ও যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, সেই কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নবপ্রণীত 'পদোন্নতির প্রবিধানমালা, ২০২১' ভূতাপেক্ষভাবে (পেছনের তারিখ থেকে) প্রয়োগ করা যাবে না। রিট আবেদনকারীরা পূর্ববর্তী 'প্রবিধানমালা, ২০১১'-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ও আইনি অধিকার অর্জনকারী। পরবর্তীতে প্রবিধানে যেকোনো পরিবর্তন আনা হলেও তাদের অর্জিত যোগ্যতা বা অধিকার ক্ষুণ্ন করার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের নেই।"

আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ

হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট পিটিশনের রুলটি নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করে নির্দেশ দেন যে: ১. ২০২১ সালের নতুন প্রবিধানমালা প্রবর্তনের আগেই যারা যোগ্য হয়েছিলেন, তাদের পদোন্নতি ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনেই বিবেচনা করতে হবে।

২. পদের শূন্যতা ও অন্যান্য আইনি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী ১ (এক) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধির অধীনে এই পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশাসনিক ও সরকারি চাকরিজীবীদের অর্জিত আইনি অধিকার ও পদোন্নতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের এই রায়কে অত্যন্ত অর্থবহ ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency