| বঙ্গাব্দ

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কী কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-10-2026 ইং
  • 43827 বার পঠিত
মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কী কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশন: মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কী

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প: সিনেট রক্ষাই মূল লক্ষ্য, প্রস্তুত বিকল্প কৌশল

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর পার হওয়ার মুখে এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানোর তীব্র আশঙ্কায় ভুগছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পরিষদ হাতছাড়া হলেও অন্তত সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করাকে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হিসেবে ধরে নিয়ে আটঘাঁট বেঁধে নামছেন ট্রাম্প ও তাঁর কৌশলবিদেরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের ক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কংগ্রেসের কোনো একক বা উভয় কক্ষের সমর্থন ছাড়াই প্রশাসনিক ক্ষমতা ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখছে ট্রাম্প প্রশাসন।

নির্বাচনে কী কী বাজি ধরা?

আগামী ৩ নভেম্বরের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন নিম্নকক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সামান্য ব্যবধানে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। ফলে ডেমোক্র্যাটদের হাউস দখল করতে মাত্র কয়েকটি আসনের প্রয়োজন, যা বর্তমান রাজনৈতিক আবহাওয়ায় খুবই সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাথাম হাউস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অন্তত একটি কক্ষ হাতছাড়া হওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের আইনি ও নীতিগত ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে এই নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ট্র্যাজেক্টরি ও দিকনির্দেশনা তৈরি করে দেবে।

‘মনে করুন ব্যালটে আমিই আছি’— রিপাবলিকানদের চাঙ্গা করার ট্রাম্পীয় কৌশল

ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল ব্যাকফুটে থাকে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে সরাসরি ব্যালটে প্রার্থী নন। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের উঁচুধাপ এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে মেজরিটি ভোটারদের ক্ষোভ সরাসরি রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর পড়তে পারে।

এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে নির্বাচন প্রচারণার শেষভাগে নিজে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প। সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনার আকুল আবেদনে তিনি রিপাবলিকানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: “মনে করুন ব্যালটে আমি নিজে প্রার্থী হিসেবে আছি।”

তবে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও কৌশলগত বিভাজন দেখা যাচ্ছে। মিশিগানের সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের মতো ডেমোক্র্যাট বা মধ্যপন্থী অঙ্গরাজ্যের প্রার্থীরা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে জীবনযাত্রার মান, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাবকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে কিছুটা কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভোটার আইনি কড়াকড়ি

নির্বাচনি ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন বিতর্ক উসকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নির্বাচনি ব্যবস্থা ‘বিপজ্জনকভাবে উন্মুক্ত’ দাবি করে তিনি এবার নির্বাচনে বৈদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলছেন।

পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ (SAVE America Act)-এর মতো আইনের ওপর জোর দিচ্ছে, যেখানে:

  • ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের কঠোর প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা।

  • ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত ফটো আইডি (Photo ID) প্রদর্শন করা।

  • ডাকযোগে বা পোস্টাল ভোটের (Mail-in Voting) সুযোগ সীমিত করা।

পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডাকযোগে ভোট দেওয়া ভোটারদের ৬০ শতাংশই ডেমোক্র্যাট সমর্থক। ফলে পোস্টাল ভোট সীমিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তা ডেমোক্র্যাটদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। চাথাম হাউস-এর তথ্যমতে, ভোটারদের আস্থা ইতিমধ্যেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

কংগ্রেস হাতছাড়া হলে ট্রাম্পের অবস্থান কী হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটি হারালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও নতুন আইন প্রণয়নের পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে যাবে।

  • কংগ্রেশনাল তদন্ত ও ইমপিচমেন্ট শঙ্কা: ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন করপোরেট ও ব্যবসায়ী দাতা সংস্থাসংক্রান্ত লেনদেন, ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে ধারাবাহিক তদন্ত শুরু করতে পারবে। এমনকি তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (অভিশংসন) প্রস্তাব উত্থাপনের পথও সুগম হতে পারে।

  • নির্বাহী আদেশের প্রয়োগ: এশিয়া টাইমস-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিল এমটের মতে, কংগ্রেস হাতছাড়া হলেও ট্রাম্প থেমে থাকবেন না। তিনি তখন ভেটো ক্ষমতা, প্রেসিডেন্সিয়াল এক্সিকিউটিভ অর্ডার এবং ফেডারেল আদালতের আইনি লড়াইকে হাতিয়ার করে নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাবেন।

সার্বিকভাবে, ৩ নভেম্বরের এই ভোট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ভবিষ্যৎ এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency