প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর পার হওয়ার মুখে এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানোর তীব্র আশঙ্কায় ভুগছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের ক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কংগ্রেসের কোনো একক বা উভয় কক্ষের সমর্থন ছাড়াই প্রশাসনিক ক্ষমতা ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখছে ট্রাম্প প্রশাসন।
আগামী ৩ নভেম্বরের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন নিম্নকক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাথাম হাউস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অন্তত একটি কক্ষ হাতছাড়া হওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের আইনি ও নীতিগত ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে এই নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ট্র্যাজেক্টরি ও দিকনির্দেশনা তৈরি করে দেবে।
ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল ব্যাকফুটে থাকে।
এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে নির্বাচন প্রচারণার শেষভাগে নিজে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প।
তবে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও কৌশলগত বিভাজন দেখা যাচ্ছে। মিশিগানের সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের মতো ডেমোক্র্যাট বা মধ্যপন্থী অঙ্গরাজ্যের প্রার্থীরা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে জীবনযাত্রার মান, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাবকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে কিছুটা কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনি ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন বিতর্ক উসকে দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ (SAVE America Act)-এর মতো আইনের ওপর জোর দিচ্ছে, যেখানে:
ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের কঠোর প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত ফটো আইডি (Photo ID) প্রদর্শন করা।
ডাকযোগে বা পোস্টাল ভোটের (Mail-in Voting) সুযোগ সীমিত করা।
পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডাকযোগে ভোট দেওয়া ভোটারদের ৬০ শতাংশই ডেমোক্র্যাট সমর্থক। ফলে পোস্টাল ভোট সীমিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তা ডেমোক্র্যাটদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটি হারালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও নতুন আইন প্রণয়নের পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে যাবে।
কংগ্রেশনাল তদন্ত ও ইমপিচমেন্ট শঙ্কা:
নির্বাহী আদেশের প্রয়োগ:
সার্বিকভাবে, ৩ নভেম্বরের এই ভোট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ভবিষ্যৎ এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |