| বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-10-2026 ইং
  • 69956 বার পঠিত
বগুড়ায় তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার
ছবির ক্যাপশন: ধর্ষণের অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ: বগুড়ার সেই এসআই আনছার আলী পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

বিয়ে ও প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আনছার আলীকে অবশেষে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস আলী এই প্রত্যাহারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ সুপার মহোদয়ের সুনির্দিষ্ট আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রাতেই অভিযুক্ত এসআই আনছার আলী তাঁর কর্মস্থল ত্যাগ করে বগুড়া জেলা পুলিশ লাইনসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন।

পুলিশের কাছে ভুক্তভোগী তরুণীর দাখিল করা লিখিত অভিযোগের বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ওই তরুণীর স্বামীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলার অভিযোগের তদন্ত করতে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন এসআই আনছার আলী। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। পরবর্তীতে পরিচয়ের সূত্র ধরে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ভুক্তভোগী তরুণীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলার ভয় ও ভনিতা দেখিয়ে এবং বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং ধর্ষণ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

পরবর্তীতে ওই তরুণী এসআই আনছার আলীকে বিয়ের জন্য নিয়মিত চাপ ও তাগিদ দিতে শুরু করলে তিনি হঠাৎ করেই তরুণীর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ চিরতরে বন্ধ করে দেন। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে এবং প্রতারণার শিকার হয়ে ন্যায়বিচার পেতে গত ৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী তরুণী স্বয়ং উপস্থিত হয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশেই অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অভিযোগটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেন শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণীকে ডেকে তাঁর বিস্তারিত জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় ঘটনার সপক্ষে অভিযুক্ত এসআই আনছার আলীর সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন সময়ের ফোনালাপ ও চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট এবং কিছু ডিজিটাল ভিডিও ফুটেজ সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ওই তরুণী।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ওই তরুণীর একাধিকবার যাতায়াত করার সত্যতা ও প্রমাণ মিলেছে। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ডিজিটাল প্রমাণপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency