প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
দীর্ঘ আট মাসেরও বেশি সময় ধরে পর্যটকশূন্য থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার পর্যটন মৌসুমের সময়সীমা ও দৈনিক পর্যটক সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরো মৌসুমজুড়ে দ্বীপে রাতযাপনের পূর্ণ সুযোগ মিলছে। এতে দ্বীপবাসী ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত ছাড়পত্র এবং ট্রাভেল পাসের সফটওয়্যার চালুর জটিলতায় শুরুর দিন থেকেই ভ্রমণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও সেখানে রাতযাপন করতে পারবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি প্রতি পর্যটকের কাছ থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা আদায় করা হবে।
অনুমতি ও সফটওয়্যার জটিলতায় শুরুতেই থমকে যাওয়ার আশঙ্কা মৌসুমের প্রথম দিন থেকেই সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং টিকিট বুকিংয়ের প্রশাসনিক জটিলতায় শুরুতেই স্থবিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, পর্যটকবাহী জাহাজ এমবি কর্ণফুলী, বার আউলিয়া ও এমবি টেকনাফ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েস লাইসেন্স এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর চূড়ান্ত রুট পারমিট ও সময়সূচি এখনো হাতে পৌঁছায়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও চূড়ান্ত অনুমতি মেলেনি।
এছাড়া সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কিউআরকোডযুক্ত ট্রাভেল পাস সফটওয়্যার নিয়ে। টিকিট ক্রয়ের জন্য বাধ্যতামূলক এই সফটওয়্যারটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়নি। ফলে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পর্যটন মৌসুমের শুরুর প্রথম ৪-৫ দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাহাজ মালিক ও ট্যুর অপারেটররা।
প্রশাসনিক বিষয়ের ব্যাখ্যায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান জানান, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা থেকে ছাড়পত্রের অফিশিয়াল ডকুমেন্টস জমা হলেই জেলা প্রশাসন অবিলম্বে জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত অনুমতি প্রদান করবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী (সিইসি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাভেল পাসের কারিগরি জটিলতা নিরসন ও বৈঠকের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
রাতযাপন নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান পূর্বে প্রজ্ঞাপন সংক্রান্ত ভুলের কারণে নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি-মার্চে রাতযাপনের সুযোগ নিয়ে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে গত ২৭ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের মতো কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজে ভ্রমণকারী পর্যটকেরা পুরো মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের সুযোগ পাবেন।
পরিবেশ রক্ষা ও কঠোর নির্দেশাবলী সেন্টমার্টিনের প্রবাল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বের কঠোর বিধিনিষেধসমূহ বহাল রাখা হয়েছে:
রাতে সমুদ্রসৈকতে আলো জ্বালানো, লাউডস্পিকারে শব্দ তৈরি করা বা বারবিকিউ পার্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ বা কেনাবেচা করা যাবে না।
সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক-ঝিনুক ও রাজকাঁকড়াসহ দ্বীপের কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন দণ্ডনীয় অপরাধ।
সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন পর পর্যটন চালুর খবরে দ্বীপের হোটেল-রিসোর্ট ও দোকানপাট ধোঁয়া-মোছার কাজ জোরকদমে চলছে। পাশাপাশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ ও নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দ্রুততম সময়ে জাহাজ যাতায়াতের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে তোলার আকুল দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |