ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ফলের বাগানের তিন শতাধিক গাছ কর্তন: আ.লীগ ও জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি ফলের বাগানের তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ধ্বংস করার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। ধ্বংসস্তূপের চিত্র ও গাছ কাটার দুটি পৃথক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাগানটির মালিক মো. মাজেদুল হাসানের বাড়ি উপজেলার পশ্চিম আউরা গ্রামে, তবে তিনি কর্মসূত্রে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। মাজেদুল হাসানের সরাসরি অভিযোগ, এই গাছ কাটার ঘটনায় সরাসরি জড়িত রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ কাঁঠালিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল মুন্সি, তাঁর বড় ভাই ও স্থানীয় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী জাকির হোসেন মুন্সি এবং তাঁদের ছোট ভাই জসিম মুন্সিসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দুটি ভিডিওচিত্রে স্পষ্ট দেখা যায়, অভিযুক্ত জামাল মুন্সি হাতে ধারালো দা নিয়ে বাগানের ঘেরা-বেড়া ও গাছ কাটছেন এবং তাঁর পেছনেই অবস্থান করছেন তাঁর বড় ভাই জাকির মুন্সি।
ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে প্রধান সড়কের পাশে নিজস্ব ১১ কাঠা জমিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ লাগিয়ে নিবিড়ভাবে বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন মাজেদুল হাসান। সেখানে সুপারি, আম, কাঁঠাল, লেবু, নারকেল এবং প্রায় দেড় শতাধিক ফলদ ও রেইনট্রি গাছ ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজনের এই অন্যায় ও একতরফা হামলায় গাছ কাটায় তাঁর অন্তত দুই লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বাগানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি ওবায়দুল মুন্সি জানান, “জমির মূল মালিক ঢাকায় থাকার কারণে জমি ও বাগানের যাবতীয় তদারকি আমিই করি। শনিবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন বেআইনিভাবে ঢুকে বাগানের ফলদ ও ঔষধি গাছগুলো নির্বিচারে কেটে ফেলতে শুরু করে। আমি মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা আমাকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আমি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।”
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ঢাকায় অবস্থানরত মালিক মাজেদুল হাসান বলেন, “আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সম্পূর্ণ পূর্বশত্রুতার জেরে তারা আমার স্বপ্ন ও কষ্টে গড়া বাগানের তিন শতাধিক গাছ কেটে ধ্বংস করেছে। আমি দ্রুত এলাকায় ফিরে আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেব।”
অভিযোগ অস্বীকার ও আইনি পদক্ষেপ
তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জামাল মুন্সি। তিনি দাবি করেন, “যে জমিতে গাছ কাটার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আমাদের পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তি রয়েছে। ফলের গাছ সম্পূর্ণ কেটে ফেলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু নাছের রায়হান জানান, এ বিষয়ে ভূক্তভোগী পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।