| বঙ্গাব্দ

হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগ নেতার মা-বাবা ও বোনসহ পরিবারের ৮ জন গ্রেপ্তার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-11-2026 ইং
  • 16631 বার পঠিত
হাসপাতাল থেকে ছাত্রলীগ নেতার মা-বাবা ও বোনসহ পরিবারের ৮ জন গ্রেপ্তার
ছবির ক্যাপশন: মা-বাবা ও বোনসহ পরিবারের ৮ জন গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা: মা-বাবা ও বোনসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা প্রিন্স গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নাশকতা মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সহায়তার অভিযোগে ওই ছাত্রলীগ নেতার মা, বাবা, ছোট বোন এবং চার বন্ধুসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাঁদের সুনামগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতের বিচারক সাতজনকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন এবং অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট বোনকে সরকারি সেফহোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে গ্রেপ্তারকৃত আটজন হলেন—নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তাঁর বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), মা শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), ভাই শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০), সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও ছোট বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬), দিরাই উপজেলার ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার কাওছার আহমদ সোহাগ (২০) এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জের তাকবির রহমান তানহির (২০)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে অভিযুক্তদের সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অন্যদিকে, ছাত্রলীগ নেতার ছোট বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নারী ও শিশু আদালত তাঁকে সেফহোমে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ও হাসপাতালের নাটকীয়তা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে নাশকতার মামলার এজহারভুক্ত আসামি হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। থানায় পৌঁছানোর কিছু সময় পর তিনি আকস্মিক অসুস্থ বোধ করলে পুলিশ তাঁকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করে।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সিলেটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে প্রিন্সের পরিবারের সদস্য ও তাঁর সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে আকস্মিক ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং ডিউটিরত পুলিশের ওপর চড়াও হন।

পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করেন এবং পুলিশ হেফাজত থেকে অসুস্থ আসামি প্রিন্সকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত আক্রমণ ও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালান প্রিন্স নিজেও।

এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনার পরদিন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ ও পূর্বের প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর রাতে নাশকতার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের পর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, যার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে পুলিশের ওপর হামলার এই নতুন ঘটনায় পুরো বিষয়টি মোড় নিয়েছে এবং পুলিশ হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই পরিবারের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে এল।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency