| বঙ্গাব্দ

ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-11-2026 ইং
  • 41291 বার পঠিত
ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবির ক্যাপশন: ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা

ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

ইসরাইলকে প্রতিবছর দেওয়া প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এ বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটন এ অর্থ দেওয়া বন্ধ করবে। তবে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে ঠিক কোন তহবিল বা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া অর্থ বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। অর্থায়ন বন্ধের প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও স্পষ্ট করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশটিকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ফলে চলতি বছরের শেষে অর্থায়ন বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির সম্পর্ক কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ২০২৮ সালের পর ইসরাইলকে মার্কিন সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা চলছে।

ইসরাইলের অর্থের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থের প্রয়োজন নেই। তার মতে, কিছু ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিক ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার বিষয়টি ব্যবহার করে রিপাবলিকানদের সমালোচনা করছেন।

ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়েছে যে ইসরাইলকে প্রতিবছর দেওয়া ৪ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন বন্ধ করা হবে। কয়েক মাস আগেই এ বিষয়ে সম্মতি হয়েছে এবং বছরের শেষ নাগাদ অর্থ দেওয়া বন্ধ হবে। তবে ইসরাইলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

কয়েক মাস আগে সমঝোতা হওয়ার দাবি করলেও মঙ্গলবার কেন বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।

এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউস ও নেতানিয়াহুর কার্যালয় কোনো সাড়া দেয়নি।

ইসরাইলকে মার্কিন সহায়তা নিয়ে জনমত পরিবর্তন

২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনসমর্থন কমেছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

জুনে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, ৪৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অতিরিক্ত সহায়তা দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে এ মতের হার ৬৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে একই প্রশ্ন করা হলে এ হার ছিল যথাক্রমে ১৬ ও ২০ শতাংশ।

জরিপ ও নির্দলীয় বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী সমালোচনা বাড়ছে

ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমার পাশাপাশি দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। ইসরাইলের সমালোচক হিসেবে পরিচিত প্রার্থীরা দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে সাফল্য পাচ্ছেন। এমনকি মধ্যপন্থি আইনপ্রণেতারাও ইসরাইলকে কয়েক দশক ধরে দেওয়া মার্কিন সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ এক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ সিনেট সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন। ইসরাইলকে শর্তহীন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন, মার্কিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

ট্রাম্পের দাবি, বামপন্থি রাজনীতিকেরা ইসরাইলকে দেওয়া অর্থায়নের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি এল-সায়েদের সমালোচনা করেন এবং বলেন, ইসরাইলের যখন অর্থের প্রয়োজন নেই, তখন এ সহায়তাকে কেন্দ্র করে কেন তাদের রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়তে হবে?

মাগা আন্দোলনের একাংশের মধ্যেও সমালোচনা

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের কিছু সমর্থকের মধ্যেও ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, ইসরাইল প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করেছে।

তাদের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ইসরাইল তাকে এমন ধারণা দিয়েছিল যে ইরানকে সহজেই যুদ্ধে পরাজিত করা সম্ভব।

মার্কিন সহায়তার চুক্তি ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ইসরাইলের জন্য অর্থায়নের অনুমোদন দিয়ে আইন পাস করে। তবে অর্থ ছাড় ও বিতরণের জন্য সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে প্রতিবছর বরাদ্দ বিল পাস করতে হয়।

অন্যদিকে, অক্টোবরে ইসরাইলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইসরাইল যে সামরিক সহায়তা পেয়ে আসছে, ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বাস্তবতা বদলে গেছে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর ইসরাইলের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকায় অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency