| বঙ্গাব্দ

. বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন নীতি আনছে মালয়েশিয়া, ৩ডি কাজেই সীমিত রাখার প্রস্তাব

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-11-2026 ইং
  • 54794 বার পঠিত
. বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন নীতি আনছে মালয়েশিয়া, ৩ডি কাজেই সীমিত রাখার প্রস্তাব
ছবির ক্যাপশন: মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে পরিবর্তনের ভাবনা, ৩ডি খাতে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব

বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন ব্যবস্থাপনা চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটির সরকার। বিদেশি কর্মীদের মূলত নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন (৩ডি) কাজের ক্ষেত্রেই নিয়োগ সীমিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গনি। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এটি দেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বিদেশি কর্মী ২৬ লাখ

সোমবার (২ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকিয়াতে বক্তব্য দেওয়ার সময় জোহরি আবদুল গনি জানান, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৬ লাখ বিদেশি কর্মী কাজ করছেন।

তিনি বলেন, দেশটির ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে সেই পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ১০ থেকে ২০ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানও নিয়মিত বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানাচ্ছে। ফলে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা মূলত ৩ডি খাতের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। সংসদ সদস্য তান হং পিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদেশি শ্রমিক নির্ভরতা কমাতে চায় সরকার

জোহরি আবদুল গনি বলেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করছে।

এই নির্ভরশীলতা কমানোকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব কাজ স্থানীয় কর্মীদের দিয়ে পূরণ করা কঠিন, বিশেষ করে নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও শারীরিকভাবে কঠিন কাজের জন্যই বিদেশি কর্মী নিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ নীতিতে নমনীয়তা চান সংসদ সদস্য

সংসদ সদস্য তান হং পিন বলেন, মালয়েশিয়ার অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কারখানায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। তারপরও উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে কিছু অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব পদের বড় অংশে বিদেশি নাগরিকরা কাজ করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন করা কিছু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কম ব্যয়ে শ্রমিক পাওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভিয়েতনামে কারখানা স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তাঁর মতে, এ ধরনের পরামর্শ মালয়েশিয়ার শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা তৈরি করতে পারে। এর ফলে উদ্যোক্তারা কারখানা অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

তান হং পিন আরও জানতে চান, বিভিন্ন শিল্পে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা বেড়েছে, তা মূল্যায়নে মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেবে কি না।

পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, তাদের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতিতে নমনীয়তা আনার বিষয়টিও বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

বিদেশি কর্মী নিয়োগে কঠোর ব্যাখ্যা দিতে হবে প্রতিষ্ঠানকে

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জোহরি আবদুল গনি জানিয়েছিলেন, ৩ডি খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কেন তাদের এসব কর্মী প্রয়োজন।

এ ছাড়া ৩ডি খাতের বাইরে অন্য কোনো পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • প্রস্তাবিত বেতনের পরিমাণ।
  • সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা।
  • নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা ও যোগ্যতার বিবরণ।

এর মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে চায় দেশটির সরকার।

শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত শ্রমিক চাহিদা বিবেচনা করা জরুরি।

বিশেষ করে উৎপাদন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রমিকের প্রাপ্যতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় শ্রমিকের অভাবে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে মালয়েশিয়ার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপসংহার

বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা কমানো এবং স্থানীয় শ্রমবাজারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মালয়েশিয়া নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ নীতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ৩ডি খাতের বাইরে বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বড় বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে। প্রায় ২৬ লাখ বিদেশি কর্মী থাকা দেশটিতে এই নীতিগত পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency