গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও ফিলিস্তিনিদের ধর্মঘট: এক মানবিক সংকটের দৃশ্য
২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজার মানুষের জীবন চরম বিপদে পড়েছে। ১৫ মাসের দীর্ঘ যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, গাজা উপত্যকায় বেসামরিক জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধবিরতির একটি ছোট্ট সময়কাল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এসেছিল, তবে এখনো ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, আর গাজার মানুষদের জীবন চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে।
গত ৭ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এই ধর্মঘটের মাধ্যমে তাদের ওপর চলমান জাতিগত নিধন এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা বিশ্বাস করেন যে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) তাদের অধিকার খর্ব করছে এবং তাদের জীবনযাত্রা বিপন্ন করে তুলেছে।
ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ফাতাহ, হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর একটি জোট। এই ধর্মঘটের মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান আক্রমণের বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পশ্চিম তীরের বেশির ভাগ দোকানপাট, স্কুল এবং প্রশাসনিক ভবন বন্ধ ছিল, এবং পূর্ব জেরুজালেমের সালাহেদ্দিন সড়কও শুনশান ছিল, যেখানে সাধারণত জনসমাগমের প্রাচুর্য থাকে।
গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল, বাড়ি এবং বাজারগুলো প্রতিনিয়ত হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো একাধিকবার গাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা এই সংঘর্ষে বেসামরিক জনগণের ওপর ইসরায়েলের আচরণকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সহায়তা প্রদান ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় যেসব বিমান হামলা চালিয়েছে, তা শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বরং বহু আবাসিক এলাকা, স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব হামলায় বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে, অনেকেই তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে, এবং জীবিকা হারিয়ে বর্তমানে তারা আশ্রয়ের সন্ধানে রয়েছে।
ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে দৃশ্যমান প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। পশ্চিম তীরের শহরগুলোতে দোকানপাট বন্ধ ছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এবং ফিলিস্তিনিরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানাতে রাস্তায় নেমে এসেছে। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলো এই ধর্মঘটের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আরও চাপ সৃষ্টি করতে চায়। এই ধর্মঘটকে তারা এক ধরনের প্রতিবাদ হিসেবে দেখতে চায়, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনিরা শুধুমাত্র তাদের নিজ ভূমিতে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, আন্তর্জাতিক সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়, মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান আক্রমণ ও মানবিক সংকটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে ইসরায়েলের এই হামলা নিয়ে অনেক দেশের মধ্যে অস্বচ্ছতা এবং দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। কিছু দেশ ইসরায়েলকে সমর্থন প্রদান করলেও, অন্যদিকে কিছু দেশ এবং সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও মানবাধিকার সংস্থা গাজায় হামলার অবিলম্বে বন্ধের এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনিরা উভয়কে চাপ দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে মানবিক সংকট চলছে, তা খুব দ্রুত সমাধান হতে পারে না বলেই মনে হচ্ছে।
গাজার পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের শেষ নেই। যুদ্ধবিরতির পর, যদি একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি না হয়, তবে আরও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে, গাজার মানুষগুলোকে জীবিত থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে, কিন্তু তাদের মৌলিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তার জন্য যে জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা এখনও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আসেনি।
বিশ্বজুড়ে মানবিক সাহায্যের সংগঠনগুলো ফিলিস্তিনিদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবে শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জীবনযাত্রার নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |