২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নতুন বছরের জন্য সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে সাত দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ায় কার্যকর সরকারি ছুটির সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২২ দিন। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের ঐচ্ছিক ছুটির দিনগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্যও বিশেষ সামাজিক উৎসবের ছুটি রাখা হয়েছে।
বছরের প্রথম মাসে দুটি ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ১ জানুয়ারি শুক্রবার ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা এবং ৬ জানুয়ারি বুধবার পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
ফেব্রুয়ারিতে তিনটি ঐচ্ছিক ছুটির দিন রয়েছে।
১১ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা উপলক্ষে ছুটি নিলে পরবর্তী শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত করে টানা তিন দিন অবকাশ কাটানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে মাঘী পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ শনিবার হওয়ায় সেটি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে।
মার্চ মাসে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে।
৬ মার্চ শনিবার শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন ১৩ মার্চ শনিবার মুসলিম সরকারি কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। তবে উভয় তারিখই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে।
এ ছাড়া ২২ মার্চ সোমবার দোলযাত্রা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ছুটি রয়েছে।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য মার্চে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিনের ছুটির সুযোগ রাখা হয়েছে:
এর মধ্যে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সাধারণ ছুটি। ২৫ ও ২৮ মার্চ ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলে সাপ্তাহিক ছুটি এবং সাধারণ ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ কাটাতে পারবেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীরা।
এপ্রিল মাসে সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে।
৪ এপ্রিল রোববার হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ছুটি নিতে পারবেন। এর আগে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা তিন দিনের অবকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈসাবি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর সামাজিক উৎসব উপলক্ষে ১২ ও ১৫ এপ্রিল ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে। তারিখ দুটি যথাক্রমে সোমবার ও বৃহস্পতিবার।
এ ছাড়া ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
মে মাসে মুসলিম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে।
১৯ মে বুধবার বুদ্ধপূর্ণিমার আগের দিন এবং ২১ মে শুক্রবার বুদ্ধপূর্ণিমার পরের দিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
অন্যদিকে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ১৭ মে সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের চতুর্থ দিন ২১ মে শুক্রবার মুসলিম সরকারি কর্মচারীরাও ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে পড়েছে।
২০২৭ সালের জুন মাসে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আলাদা কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়নি।
জুলাই মাসে দুটি ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আষাঢ়ী পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ ১৮ জুলাই রোববার। এদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলে আগের শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিন অবকাশ কাটানো যাবে।
এ ছাড়া ২৮ জুলাই বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে মুসলিম সরকারি কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
আগস্ট মাসের জন্য কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক উৎসবের ঐচ্ছিক ছুটি ঘোষণা করা হয়নি।
সেপ্টেম্বর মাসে মুসলিম, বৌদ্ধ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ১৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম পালিত হতে পারে। এ উপলক্ষে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
১৫ সেপ্টেম্বর বুধবার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধু পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ। আর ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মহালয়া উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
মহালয়ার ছুটির সঙ্গে পরবর্তী শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে টানা তিন দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অক্টোবর মাসে সনাতন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একাধিক ঐচ্ছিক ছুটির দিন রাখা হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজার সপ্তমী ও অষ্টমী উপলক্ষে ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এবং ৮ অক্টোবর শুক্রবার ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এর পর ৯ অক্টোবর শনিবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ১০ অক্টোবর রোববার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ থাকছে।
এ ছাড়া ১৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে। একই দিনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিন ছুটি নিলে পরবর্তী শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দুই ধর্মের সরকারি কর্মচারীরাই টানা তিন দিনের অবকাশ পেতে পারেন।
মাসের শেষ দিকে ২৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শ্যামাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। এর পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এখানেও টানা তিন দিনের অবকাশ কাটানো সম্ভব।
নভেম্বর মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়নি।
বছরের শেষ মাসে খ্রিষ্টান ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে।
২৫ ডিসেম্বর শনিবার যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন বা বড়দিন। এ উপলক্ষে ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার এবং ২৬ ডিসেম্বর রোববার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা তিন দিনের অবকাশ কাটানো যাবে।
অন্যদিকে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৬ ডিসেম্বর রোববার পবিত্র শবে মিরাজ পালিত হতে পারে। এ উপলক্ষে মুসলিম সরকারি কর্মচারীরাও ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এর আগের শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় তারাও টানা তিন দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
২০২৭ সালের ছুটির তালিকায় বিভিন্ন ধর্ম ও সামাজিক উৎসবের জন্য একাধিক ঐচ্ছিক ছুটির দিন রাখা হলেও প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী নিজের ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন এ ধরনের ছুটি নিতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে:
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে সাত দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ায় কার্যকর ছুটির সংখ্যা ২২ দিন।
অন্যদিকে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি সমন্বয় করে টানা অবকাশ কাটানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ রয়েছে। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল উৎসবগুলোর তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |