গাজায় ইসরায়েলের টানা হামলায় আরও প্রাণহানি, চিকিৎসা সংকটে মৃত্যুর মিছিল
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৯ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক অভিযান গাজাকে পরিণত করেছে এক মৃত্যুকূপে। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এক বিবৃতিতে গাজায় চিকিৎসা সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধের ফলে খাদ্য, পানি ও ওষুধ প্রবেশে ব্যাপক বাধা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় সেখানে রোগব্যাধি ও অপচিকিৎসার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গেব্রেয়েসুস জানান, গাজায় বর্তমানে অন্তত ১০ হাজার মানুষ বিদেশে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে, কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না অবরোধের কারণে।
চলতি বছরের মার্চ মাসের ১৮ তারিখে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল ফের নতুন করে হামলা শুরু করে গাজায়। তাতে গত কয়েক সপ্তাহেই নিহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি। তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের লক্ষ্য হামাস ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থান, কিন্তু বাস্তবে এসব হামলায় অধিকাংশ প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নির্বিচারে চালানো বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ ও ঘরবাড়ি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫০ হাজার ৮৮৬ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে বহু মানুষ আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন। অনেকেই আশ্রয়হীন, শিশুদের ভবিষ্যৎ পড়ে আছে অনিশ্চয়তার মুখে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। নিরাপদ পানীয় জল, চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাবে লক্ষাধিক মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা ও নারীসন্তানরা।
গাজায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ এখনও চোখে পড়ছে না। কিছু মানবাধিকার সংস্থা ও মানবিক সংগঠন অবরোধ তুলে দেওয়ার আহ্বান জানালেও বড় পরিসরে রাজনৈতিক বা সামরিক চাপ প্রয়োগে অনীহা দেখা যাচ্ছে।
জাতিসংঘ, ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন), ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য সংস্থা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র থেমে নেই।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |