| বঙ্গাব্দ

বিআইডব্লিউটিএ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: বুয়েটের সতর্কতা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-07-2025 ইং
  • 4525125 বার পঠিত
বিআইডব্লিউটিএ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: বুয়েটের সতর্কতা
ছবির ক্যাপশন: বুয়েটের সতর্কতা

বিআইডব্লিউটিএ প্রধান কার্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ: বুয়েটের প্রতিবেদনে মারাত্মক ত্রুটি চিহ্নিত

ঢাকা, জুলাই:
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান কার্যালয় ভবনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভবনের একাধিক পিলারে ফাটল, রডে মরিচা এবং নিম্নমানের কংক্রিট মিক্সিংয়ের প্রমাণ মিলেছে—এমনটাই উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর গবেষণা প্রতিবেদনে।

ভবনের পিলারে ফাটল, রডে মরিচা, ধারণক্ষমতা হ্রাস

বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল ভবনের বেইজমেন্ট ও অষ্টম তলার অন্তত পাঁচটি পিলারে ফাটলের চিহ্ন এবং রডে মরিচার উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে কম্প্রেশিভ স্ট্রেংথ আশঙ্কাজনকভাবে কম পাওয়া গেছে।

উদাহরণস্বরূপ:

  • বেইজমেন্ট কলামে মাত্র ৬১০ PSI, যেখানে দরকার ছিল প্রায় ২৫০০ PSI

  • নবম তলার পিলারে ৮৭০ PSI, যা মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে।

  • রডের স্ট্রেংথ ৪০ কেএসআই, যেখানে থাকা উচিত ছিল ৬০ কেএসআই।

বুয়েটের সুপারিশ: ভবনের কার্যক্রম বন্ধ করে খালি করা হোক

প্রতিবেদনে ভবনের বর্তমান কাঠামোগত অবস্থা বিপজ্জনক উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে সব কার্যক্রম বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভবনটিকে ব্যবহার উপযোগী করতে হলে শক্তিশালীকরণ বা মেরামতের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরামর্শও দিয়েছে টিমটি।

অতিরিক্ত ওজন ভবনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ভবনের মূল নকশা লঙ্ঘন করে প্রতিটি ফ্লোরে অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও স্থাপনা নির্মাণ, বিশেষ করে ১১তম তলার বিশাল মিলনায়তন, ভবনের ওপর অতিরিক্ত ওজন তৈরি করেছে। ফলে পিলার ও বিমের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে।

কমিটি গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান প্রকৌশলী মো. মহিদুল ইসলামকে প্রধান করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১১তম তলার সব স্থাপনা অপসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় কাঠামো সরিয়ে ভবনের লোড কমানোর কাজ শুরু হয়েছে।

চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন:

"দীর্ঘমেয়াদে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প প্রস্তাবনার চিন্তা চলছে। স্বল্পমেয়াদে আমরা লোড কমানোর মাধ্যমে ভবনটিকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার চেষ্টা করছি।"

৪২ বছরের পুরনো ভবন, প্রতিদিন এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী

রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএ ভবনটি নির্মাণ শুরু হয় ১৯৭৫ সালে, সম্পন্ন হয় ১৯৮২ সালে। এক লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। সঙ্গে থাকেন শত শত সেবাগ্রহীতা ও ঠিকাদার।

চ্যালেঞ্জ: নতুন ভবন না থাকা, হঠাৎ স্থানান্তরের সমস্যা

বিআইডব্লিউটিএ’র নিজস্ব জমি ঢাকায় না থাকায় দ্রুত বিকল্প স্থান খুঁজে পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আতঙ্ক থাকলেও দ্রুত সমাধানের জন্য বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।


উপসংহার

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোর ক্ষেত্রে কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। বিআইডব্লিউটিএ ভবনের ঝুঁকি বিষয়টি শুধু প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—বরং এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত, কার্যকর এবং টেকসই সমাধান গ্রহণ করে, এমনটাই প্রত্যাশা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency