প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ |
তথ্যসূত্র: আদালত, কোতোয়ালি থানা, তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র
রাজধানীর পুরান ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন না প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন—বরং পলাতক আসামি সারোয়ার হোসেন টিটু এ হামলার নেপথ্য কুশীলব ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে মহিন বলেন,
“ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না সোহাগের সঙ্গে। টিটুর ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই পরিকল্পনা হয়। টিটুর পক্ষেই সবাই মিলে সোহাগকে হুমকি দিতে যাই। কিন্তু ঘটনাস্থলে সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তখনই উত্তেজনা থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে।”
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন:
সারোয়ার হোসেন টিটু (পলাতক)
মাহমুদুল হাসান মহিন
টিটন গাজী
মো. আলমগীর
লম্বা মনির
অ্যাম্বুলেন্সচালক সজীব ব্যাপারী
এদের সবাই একযোগে সোহাগের ওপর হামলা চালান বলে আদালতে জানানো হয়।
মহিন দাবি করেন,
“বিগত সরকারের সময় সোহাগ এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। টিটন আর আমি তখন থেকেই বঞ্চিত ছিলাম। সোহাগ আমাদের মারধরও করিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়ে। সরকার পরিবর্তনের পর আমরা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই, আর সোহাগকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। হুমকির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে ঘটনাটি সংঘটিত হয়।”
তিনি আরও বলেন,
“পাথর দিয়ে যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, সেটি কেউ ঠান্ডা মাথায় করেনি। সবাই সোহাগের পুরনো অত্যাচারে ক্ষুব্ধ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এই ট্র্যাজিক ঘটনা।”
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দুই নম্বর আসামি সারোয়ার হোসেন টিটু এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন,
“এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”
| ক্রম | আসামির নাম | অবস্থা |
|---|---|---|
| ১ | মাহমুদুল হাসান মহিন | জবানবন্দি দিয়ে কারাগারে |
| ২ | টিটন গাজী | জবানবন্দি দিয়েছে |
| ৩ | মো. আলমগীর | জবানবন্দি দিয়েছে |
| ৪ | মনির ওরফে লম্বা মনির | জবানবন্দি দিয়েছে |
| ৫ | তারেক রহমান রবিন | গ্রেফতার |
| ৬ | সজীব ব্যাপারী | জবানবন্দি দিয়েছে |
| ৭ | মো. রাজিব ব্যাপারী | রিমান্ড শেষে কারাগারে |
| ৮ | নান্নু কাজী | গ্রেফতার |
| ৯ | রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু | গ্রেফতার |
১০ জুলাই: মহিনকে প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়
১৫ জুলাই: দ্বিতীয় দফায় আরও ৫ দিনের রিমান্ড
২১ জুলাই: স্বেচ্ছায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মহিন
আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন
তদন্ত কর্মকর্তা ও ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন,
“পাঁচজন আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হচ্ছে।”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ |
| হত্যাকাণ্ডের স্থান | মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে, পুরান ঢাকা |
| মূল পরিকল্পনাকারী (দাবি অনুযায়ী) | সারোয়ার হোসেন টিটু (পলাতক) |
| প্রধান আসামি | মাহমুদুল হাসান মহিন |
| গ্রেফতারকৃত আসামি | ৯ জন |
| জবানবন্দি দিয়েছে | ৫ জন |
| তদন্ত কর্মকর্তা | কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |