বাংলাদেশ-কোরিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক: শ্রমনির্ভরতা থেকে কৌশলগত শক্তিতে উত্তরণের এক সহযাত্রা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশের তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৫
সংবাদ উৎস: বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট, আইসিটি বিভাগ ও কোরিয়ান বাণিজ্য মিশন
বাংলাদেশ এখন আর কেবলমাত্র গার্মেন্টসনির্ভর বা শ্রমঘন শিল্পে সীমাবদ্ধ একটি অর্থনীতি নয়—বরং বিশ্ববাজারে নিজেকে কৌশলগত অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়াসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত রূপান্তর ঘটছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) উৎস হিসেবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সাল থেকে এই প্রবাহ ক্রমবর্ধমান।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে ২,৫০০ আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আবির্ভাব বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে প্রথমে শঙ্কা তৈরি করলেও, দ্রুত সংস্কারপন্থি নীতির মাধ্যমে সে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের স্বচ্ছতা, দুর্নীতি দমন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ কেবল গার্মেন্টস খাতে সীমাবদ্ধ নেই:
সেমিকন্ডাক্টর ও সোলার এনার্জি: ইয়াংগন গ্রুপ কোরিয়ান ইপিজেডে বড় বিনিয়োগ করেছে
ইলেকট্রনিকস: হুন্ডাই ও ডিএক্স গ্রুপ যৌথভাবে ইলেকট্রনিক পণ্য বাজারে প্রবেশ করেছে
গৃহস্থালি পণ্য: স্যামসাং ও ফেয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে মোবাইল, টিভি ও এসি উৎপাদন চলছে
ব্যাংকিং: কোরিয়ার 'উরি ব্যাংক' বিকাশ ও 'Bank Compare BD'–এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে
বাংলাদেশ-কোরিয়ার সম্পর্ক এখন স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতেও দৃঢ় হচ্ছে:
২০২৩ সালে ঢাকায় কোরিয়ান দূতাবাসে চালু হয় ভার্চুয়াল তথ্য ডেস্ক
আইসিটি বিভাগ ও কোরিয়া প্রোডাক্টিভিটি সেন্টার চালু করে স্টার্টআপ মেন্টরিং প্রোগ্রাম
গড়ে ওঠা নতুন উদ্যোগ:
‘এমএফএম কোরিয়া’: ফুডটেক স্টার্টআপ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণে নারীদের কর্মসংস্থান
‘চারদিকে’: কোরিয়ান পণ্য বিপণন প্ল্যাটফর্ম
‘হাইসুং টিএনএস’ ও ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি’: ব্যাংক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প
মীরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (NSCEZ)-কে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় উলসান বা শেনজেন আদলে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন।
দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন বিনিয়োগ কেবল বাজার দখলের উদ্দেশ্যে নয়—বরং উভয় দেশের যৌথ উন্নয়ন ও জ্ঞান বিনিময়ের ধারায় পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জনসংখ্যার শক্তি, ভৌগলিক সুবিধা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ—এই তিনটি কারণেই বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এশিয়ার ‘নেক্সট পাওয়ার হাব’।
বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এই অংশীদারিত্ব কেবল অর্থনৈতিক নয়—বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কৌশলগত সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
এটি শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং এশিয়ার দুই উদীয়মান রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথচলার যৌথ রূপরেখা।
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫
কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (KEPZ) ভিজিট রিপোর্ট
আইসিটি বিভাগ ও কোরিয়ান দূতাবাস যৌথ বিবৃতি
UNCTAD FDI Database 2024
ব্যাংক অব বাংলাদেশ FDI Annual Overview 2025
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |