| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR): সুবিধা, অসুবিধা ও ভবিষ্যৎ বিতর্ক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-08-2025 ইং
  • 4312579 বার পঠিত
বাংলাদেশে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR): সুবিধা, অসুবিধা ও ভবিষ্যৎ বিতর্ক
ছবির ক্যাপশন: PR

পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক: সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বে নির্বাচন কতটা যৌক্তিক?

ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৫ (বিশেষ প্রতিবেদন) – আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর একটি হলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation–PR) পদ্ধতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের অনেকেই মনে করছেন, এ পদ্ধতি চালু হলে জনগণের প্রকৃত ভোট ও মতামত সংসদে প্রতিফলিত হবে। তবে এর বিপক্ষেও শক্ত যুক্তি আছে—বিশেষ করে সরকারের স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতা নিয়ে।

বর্তমান ব্যবস্থা বনাম পিআর পদ্ধতি

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে একজন প্রার্থী নির্দিষ্ট আসনে সর্বাধিক ভোট পেলে জয়ী হন, যদিও তা মোট ভোটের ৫০ শতাংশের কম হতে পারে। এর ফলে বিজয়ী দলও মোট ভোটারের অর্ধেকের কম সমর্থন নিয়েই সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়।
উদাহরণ হিসেবে –

  • ১৯৯১ সালে বিএনপি পায় মাত্র ৩০.৮১% ভোট

  • ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ পায় ৩৭.৪৪% ভোট

  • ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৪০.৯৭% ভোট

  • ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৪৮.০৪% ভোট

এর পরের নির্বাচনগুলো (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) নিয়ে বিতর্ক সুপরিচিত। ফলে দেখা যায়, প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন ছাড়া সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, পিআর পদ্ধতিতে দলগুলো জাতীয় পর্যায়ে যত শতাংশ ভোট পাবে, সেই অনুযায়ী সংসদীয় আসন বরাদ্দ হবে। এর ফলে ছোট দলও ভোট অনুযায়ী সংসদে প্রবেশ করতে পারবে, এবং সামগ্রিক প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।

বিশ্বে পিআর পদ্ধতির চর্চা

বিশ্বের ৮১টি দেশে সংসদীয় নির্বাচনে কোনো না কোনো রূপে পিআর পদ্ধতি চালু রয়েছে।

  • তালিকাভিত্তিক পিআর: স্পেন, ব্রাজিল, ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা

  • মিশ্র সদস্যভিত্তিক পিআর: জার্মানি, নিউজিল্যান্ড

  • একক হস্তান্তরিত ভোট: আয়ারল্যান্ড, মাল্টা

  • সমান্তরাল পদ্ধতি: জাপান, রাশিয়া

অধিকাংশ দেশ (৭১টি) তালিকাভিত্তিক পিআর অনুসরণ করে থাকে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পিআর পদ্ধতির সুবিধা

১. ছোট দলগুলো সংসদে প্রবেশের সুযোগ পাবে, তাদের ভোট নষ্ট হবে না।
২. বিজয়ী প্রার্থীরা প্রকৃতপক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের প্রতিফলন হবেন।
৩. স্থানীয় আবেগ, কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব কমতে পারে।
৪. সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়নে মনোযোগী হবেন; স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম স্থানীয় সরকারে ন্যস্ত হবে।
৫. ভোটারদের সামনে বেশি বিকল্প থাকবে; প্রত্যেক ভোটের মূল্য বাড়বে।
৬. নির্বাচনে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল ও ব্যক্তি-নির্ভর প্রতিযোগিতা কমতে পারে।
৭. রাজনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়বে, জোটবদ্ধভাবে কাজ করার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

অসুবিধা ও ঝুঁকি

১. কোয়ালিশন সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে।
২. ছোট ও উগ্রবাদী দল যদি জোটে নিয়ামক শক্তি হয়ে ওঠে, তবে মূলধারার দলগুলো চাপে পড়তে পারে।
৩. ভোটাররা ব্যর্থ এমপি বদলানোর সুযোগ পাবেন না, কারণ তারা নির্দিষ্ট এলাকায় নির্বাচিত নন।
৪. পদ্ধতিটি তুলনামূলক জটিল; ভোটার ও প্রশাসনের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে।

সাম্প্রতিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক অবস্থান

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অনেক ছোট-বড় দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনের সুপারিশে নিম্নকক্ষের নির্বাচনে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব আসেনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে উচ্চকক্ষ সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে গঠনের প্রস্তাব থাকলেও নিম্নকক্ষের নির্বাচন প্রচলিত পদ্ধতিতেই রাখার কথা বলা হয়েছে।

অতএব, আসন্ন নির্বাচন বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ও আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন এলে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের জন্য পিআর পদ্ধতি চালু করা হবে কি না, তা একটি জাতীয় বিতর্কের বিষয়। এটি ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে পারে, কিন্তু সরকারের স্থিতিশীলতায় চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। জাতীয় স্বার্থে কী বেশি উপকারী হবে—এটি নির্ধারণের জন্য আরও গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সর্বসম্মত ঐকমত্য জরুরি।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency