| বঙ্গাব্দ

কেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘জুলাই সনদ’তে সই করেনি? — আইন-ভিত্তি ও বাস্তবায়নসহ বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 18-10-2025 ইং
  • 2976141 বার পঠিত
কেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘জুলাই সনদ’তে সই করেনি? — আইন-ভিত্তি ও বাস্তবায়নসহ বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: জাতীয় নাগরিক পার্টি

“কেন জুলাই সনদ-এ স্বাক্ষর করেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)? আইন-ভিত্তির দাবি, ইতিহাসের গভীরতা ও পরবর্তী রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ”

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মূল প্রতিবেদন

বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়ে গেল। কিন্তু-মুখ্য স্থানীয় আন্দোলনের শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। এমনকি তারা অনুষ্ঠানেও যায়নি।
এ বিষয়ে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন — শনিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “জুলাই সনদের আইনিভিত্তি না থাকায় এবং বাস্তবায়নের সঠিক পন্থা না দেখানোয় আমরা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকিনি।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার নিন্দা ও বিচার দাবি করেন এনসিপি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ সিনিয়র নেতারা। এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় নিজ দল তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য—“অনুষ্ঠানে না যাওয়া ও স্বাক্ষর না করার দৃষ্টিকোণ” জানাতে।
এ আগেই, শুক্রবার দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “এনসিপি জুলাই সনদকে স্রেফ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল বা প্রতিশ্রুতিমূলক দলিল মনে করে না। আমরা মনে করি, জুলাই সনদের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক ভিত্তি নির্মূল এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর। এ কারণেই এই সনদের সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি থাকতে হবে।”
এবং দল জানিয়েছে — “জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রদর্শিত হলে তবেই সনদে সই করা হবে।”
এরপূর্বে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ এক বছর ধরে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে কাজ করেছে, জুলাই সনদ ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে একমত হয়েছে। সনদে রয়েছে আদেশ, গণভোট এবং এরপর সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের সক্ষম গঠনক্ষমতা—এই প্রক্রিয়ায় সনদ বাস্তবায়িত হবে—এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।
তবে এনসিপি বলছে — সনদের অঙ্গীকারনামায় বাস্তবায়ন পদ্ধতির উল্লেখ নেই। “বাস্তবায়ন পদ্ধতির উল্লেখ ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল,” – এনসিপির বিশ্লেষণ। কারণ গতকালেও রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, বলছে তারা।


প্রসঙ্গ ও বিশ্লেষণ

এই ঘটনায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কাড়ে:

  • প্রথমত, “জুলাই সনদ” নামক এই চুক্তি মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান, আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষিতে গড়ে উঠেছে। (দস্তাবেজ অনুযায়ী) 

  • দ্বিতীয়ত, স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট অংশ নিয়েছে; তবে এনসিপি সহ কিছু দল অংশ নিয়েছে না বা স্বাক্ষর করেনি। 

  • তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই সনদকে “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের মাইলফলক” হিসেবে অভিহিত করেছে। 

  • চতুর্থত, এনসিপি-র বক্তব্য আইন ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে। তারা বলছে, শুধুই চুক্তি বা সমঝোতা নয়—বাস্তবায়নের রূপরেখা ও গঠনক্ষমতা নিশ্চিত হবে তখনই।

  • পঞ্চমত, এই মুহূর্তে সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৫-এর এ প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কারণ আগামী অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন (২০২৬ সালের দিকে) এই চুক্তির ফলপ্রসূতা নির্ভর করছে।


ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

  • ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, স্বায়ের অধিকারসহ বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়।

  • ১৯৯১ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় পরিণত হয়।

  • ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলুপ্তি হয়।

  • ২০২৪-২৫ সময়ে রাজনৈতিক সংকট, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এবং এখন “জুলাই সনদ” নামে নতুন চুক্তি—এই সব পরিভ্রমণ দেখায় যে, বর্তমান প্রক্রিয়া ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয় বরং নতুন দিক নির্দেশ করছে।

  • এনসিপি-র হুংকার ও অবস্থান এই কথা দেখাচ্ছে যে, শুধু চুক্তি করা যথেষ্ট নয়—দায়বদ্ধ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।


সিদ্ধান্ত

এনসিপি-র স্বাক্ষর না করার কারণ যেমন আইনিভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির অনিশ্চয়তা, তেমনই এটি বাংলাদেশ রাজনীতিতে অনুষ্ঠানিক সমঝোতা বনাম বাস্তব ক্ষমতার প্রয়োগ—এই দ্বৈরথকে আড়াল করে না। “জুলাই সনদ” যেকোনো রাজনৈতিক দলীয় দলিলের চেয়ে বেশি হতে চায়—এটি গণতন্ত্র, নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক সংহতির প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু যদি আইন-সংবিধানগত ভিত্তি, রূপরেখা ও দৃষ্টান্তমূলক বাস্তবায়ন না হয়—তাহলে এটি শুধুই শব্দের খেলা হয়ে যাবে।
এনসিপি-র অবস্থান ও বক্তব্য এই রকম সময়োপযোগী প্রশ্ন উত্থাপন করেছে: চুক্তি স্বাক্ষর নাকি দৃষ্টান্ত স্থাপন? শুধু লেখা না বাস্তব পরিবর্তন কি সিদ্ধান্তমূলক? সামনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন রাজনৈতিক গতিপথটিকে প্রভাবিত করবে।

সূত্র

  1. “জুলাই সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐক্য ও সংস্কারের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি” – প্রথম আলো, ১৮ অক্টোবর ২০২৫। 

  2. “‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের মাইলফলক” – ইত্তেফাক, ১৮ অক্টোবর ২০২৫। 

  3. “জুলাই সনদে সই করা দলের ১৯টি নিবন্ধিত” – প্রথম আলো, ১৮ অক্টোবর ২০২৫। 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency