| বঙ্গাব্দ

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি আ স ম রবের: ৫ দফা পেশ, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-12-2025 ইং
  • 3222691 বার পঠিত
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি আ স ম রবের: ৫ দফা পেশ, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
ছবির ক্যাপশন: আ স ম রব

গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক’: পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি আ স ম রবের, ৫ দফা পেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক সম্প্রতি জারিকৃত ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান এবং অধ্যাদেশটি বাতিল করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি নতুন কমিশন গঠনের জন্য নিম্নোক্ত ৫ দফা দাবি পেশ করেন।

জেএসডি সভাপতি এই অধ্যাদেশকে 'সংস্কার-প্রতিরোধের রাজনৈতিক কৌশল' এবং 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুত সংস্কারের সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক' বলে উল্লেখ করেছেন।

সংস্কার-প্রতিরোধের কৌশল অধ্যাদেশ

বিবৃতিতে আবদুর রব বলেন, “দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ বাহিনী—অর্থাৎ যার ভিত্তি গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা রক্ষা, নিরাপত্তা প্রদান এবং আইনের শাসন। সরকার তা উপেক্ষা করে একটি দুর্বল ও নামমাত্র পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ চাপিয়ে দিয়েছে।”

তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার পরিবর্তে পুলিশকে ক্ষমতা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের নিপীড়নমূলক ব্যবস্থাকে এই অধ্যাদেশ নবায়িত করেছে।

আ স ম রব: “ফলে জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার পরিবর্তে পুলিশকে ক্ষমতা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের নিপীড়নমূলক ব্যবস্থাকে এই অধ্যাদেশ নবায়িত করেছে মাত্র। এর মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক স্থাপনের স্থলে, সরকার এটিকে পুনরায় সংঘাত, অবিশ্বাস এবং শত্রুতার ভয়ঙ্কর পথে ঠেলে দিল।”

এর পরিপ্রেক্ষিতে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিলপূর্বক নিম্ন লিখিত ৫ দফার ভিত্তিতে নূতন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবি জানান আ স ম রব।

জেএসডি সভাপতির ৫ দফা দাবি

বিবৃতিতে জেএসডি সভাপতি পুলিশ বাহিনীতে আমূল পরিবর্তন আনতে সুনির্দিষ্ট ৫টি দাবি তুলে ধরেন:

১. আইন পরিবর্তন: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের (Police Act 1861) পরিবর্তন করে স্বাধীন দেশের উপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে। ২. সাংবিধানিক রক্ষক: পুলিশকে ‘Guardian of Constitutional Rights’ তথা সাংবিধানিক অধিকারের রক্ষক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। ৩. মানবিক প্রশিক্ষণ: পুলিশ প্রশিক্ষণে মানবিক মর্যাদাকে (Human Dignity) প্রাধান্য দিতে হবে। ৪. সেবা ও জবাবদিহিতা: আদেশ-নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা থেকে পুলিশকে সেবা-জবাবদিহিতার মানসিকতায় রূপান্তর করতে হবে। ৫. পূর্ণ ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র কমিশন: পুলিশ কমিশন হবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রভাব মুক্ত। কমিশনের হাতে নিয়োগ, বদলি, শৃঙ্খলা, পদোন্নতি, নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আ স ম রব বলেন, “বর্তমান পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। মানবিক, গণমুখী ও সাংবিধানিক নীতিনিষ্ঠ” (কমিশন গঠন করুন)।


সূত্র (Source)

১. জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতি (৬ ডিসেম্বর ২০২৫)।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency