প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর এবার আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং আইন মন্ত্রণালয়ে আইনি নোটিশ প্রদান করেছে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষ শক্তিসমূহের জোট ‘জুলাই ঐক্য’।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসের আবহে জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইসরাফিল ফরাজীর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জোটের পক্ষে এই আইনি নোটিশটি পাঠিয়েছেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বোরহান মাহমুদ)।
বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল তা ছিল শোষণের বিরুদ্ধে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবই ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচারের জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর ১৯৭৫-পরবর্তী সামরিক শাসন এবং পরবর্তীতে এরশাদীয় স্বৈরতন্ত্রের কবলে পড়ে দেশ। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরলেও ২০০৮ সালের পর থেকে রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে যেতে শুরু করে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ধীরে ধীরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে। ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে। এই দীর্ঘ দেড় দশকের অপশাসনে আওয়ামী লীগের প্রধান সহযোগী বা দোসর হিসেবে কাজ করেছে এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোট।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (ছাত্রদের ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই) গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই দলগুলোকে নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশ ছেড়ে পালালেও আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
সম্প্রতি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এর আহ্বায়ক এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। জুলাই যোদ্ধাদের মতে, এই হামলার পেছনে সরাসরি আওয়ামী লীগ ও তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের উসকানি রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বরের এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে জুলাই ঐক্যের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে খুনি হাসিনাকে পুনর্বাসনের কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।" তারা স্পষ্ট জানান, ৫ আগস্টের চেতনা বাস্তবায়নে এই দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সময়ের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সালে যেমন মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পতন ঘটেছিল, ২০২৪-২৫ সালে এসে তেমনি ফ্যাসিবাদের তকমা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে হলে অপরাধী সংগঠন হিসেবে দলগুলোর বিচার হওয়া জরুরি বলে মনে করছে ৩৬টি দলের এই জোট।
সূত্র: জুলাই ঐক্যের প্রেস বিজ্ঞপ্তি, আইন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
বিশ্লেষণ: ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিক্রমায় দেখা যায়, যখনই কোনো দল জনগণের ওপর জুলুম চালিয়েছে, তখনই ছাত্র-জনতা রুখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান আইনি নোটিশটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বি-আওয়ামী লীগকরণ বা ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটনের একটি আনুষ্ঠানিক আইনি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে দীর্ঘদিনের পুরনো কয়েকটি দলের নাম মুছে যেতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |