| বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ রিমুভ ও ওসমান হাদি ইস্যু | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-12-2025 ইং
  • 7298564 বার পঠিত
আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ রিমুভ ও ওসমান হাদি ইস্যু | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: আসিফ মাহমুদ

আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ রিমুভ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল লড়াই এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ৩০ লক্ষাধিক ফলোয়ারসমৃদ্ধ অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটি সম্প্রতি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অপসারণ (রিমুভ) করেছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) আসিফ মাহমুদ নিজেই অন্য একটি আইডির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নেপথ্যে 'ওসমান হাদি' ইস্যু ও সংঘবদ্ধ রিপোর্ট

আসিফ মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে সংঘবদ্ধভাবে রিপোর্ট এবং স্ট্রাইক দেওয়ার কারণে তার ভেরিফাইড পেজটি উধাও হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে লিংক শেয়ার করে পরিকল্পিতভাবে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ওসমান হাদি ইস্যুতে তিনটি ভিডিওতেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ স্ট্রাইক দেয়, যার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে পেজটি বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ওসমান হাদি হত্যা ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত রয়েছে। ২১ ডিসেম্বর অতিরিক্ত আইজিপি জানিয়েছিলেন যে হাদির হত্যাকারী সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এই অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও খোদা বখসকে আলটিমেটাম, ইশরাক হোসেনের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ ত্যাগের ঘটনাগুলো দেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: কণ্ঠরোধের বিবর্তন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যখন ভাষা আন্দোলন শুরু হয়, তখন কণ্ঠরোধ করা হতো রাজপথে লাঠিচার্জ আর বুলেটের মাধ্যমে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বাঙালির জয়জয়কার রুখতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানা ষড়যন্ত্র করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সংবাদপত্র ও প্রচারমাধ্যমে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হতো যাতে মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যায়।

১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ও রেডিও-টেলিভিশনের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশে কণ্ঠরোধের ধরন বদলেছে। এখন বিরোধী মত বা নির্দিষ্ট কোনো তথ্যকে ধামাচাপা দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘রিপোর্ট যুদ্ধ’ বা ‘সাইবার অ্যাটাক’ একটি প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসিফ মাহমুদের পেজ রিমুভ হওয়াকে অনেক বিশ্লেষক স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

২০২৫ সালের শেষভাগে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ওসমান হাদি’ ইস্যুটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর ইশরাক হোসেনের ঘোষণা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনের মাধ্যমে বোঝা যায়, জনমানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অবস্থায় আসিফ মাহমুদের মতো প্রভাবশালী নেতার সামাজিক মাধ্যম থেকে হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সালে যে লড়াই ছিল লিফলেটে আর মিছিলে, ২০২৫ সালে সেই লড়াই এসে ঠেকেছে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই ডিজিটাল লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


সূত্র: ১. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত ফেসবুক বার্তা। ২. পুলিশ সদর দপ্তর ও অতিরিক্ত আইজিপির সংবাদ সম্মেলন প্রেস নোট। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন আর্কাইভ ও ডিজিটাল মিডিয়া মনিটরিং সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
তাজা রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency