| বঙ্গাব্দ

হীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে শাহবাগ অবরোধ | ইনকিলাব মঞ্চের লাগাতার কর্মসূচি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-12-2025 ইং
  • 2913791 বার পঠিত
হীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে শাহবাগ অবরোধ | ইনকিলাব মঞ্চের লাগাতার কর্মসূচি
ছবির ক্যাপশন: হীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে শাহবাগ অবরোধ

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে উত্তাল শাহবাগ: জাস্টিস না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রাজধানীর শাহবাগ মোড় এখন স্লোগানে মুখরিত। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতার এই অবস্থানে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, খুনিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং প্রয়োজনে রাতভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও আল্টিমেটাম শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে এসে পৌঁছালে সেখানে হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সন্ধ্যায় কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, "আমরা সরকারকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুনিদের গ্রেফারের সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন আর কোনো আল্টিমেটাম নয়, এখন হবে লাগাতার আন্দোলন। শহীদ ওসমান হাদির রক্তের বদলা না নেওয়া পর্যন্ত শাহবাগ আমাদের দখলে থাকবে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "সরকার ওসমান হাদির নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন খুনিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত সরকারের পদত্যাগও কোনো সমাধান নয়। আমরা চাই বিচার। যতক্ষণ উপদেষ্টারা এখানে এসে জবাবদিহি না করবেন, ততক্ষণ অবরোধ চলবে।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শাহবাগ এবং রাজপথ সবসময়ই ন্যায়ের দাবির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ১৯৫০-এর দশকে যখন রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্র সমাজ ফুঁসে উঠেছিল, তখন থেকেই এ দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে অধিকার আদায় করতে শিখেছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিকদের আত্মত্যাগ যেভাবে বাঙালিকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গিয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানও একইভাবে এক স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান কিংবা ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও দেখা গেছে, যখনই কোনো হত্যার বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তখনই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে আন্দোলনকারীরা বিচারহীনতার নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। বক্তাদের মতে, ১৯৫০ থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিটি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, যা আজ আবারও সংকটের মুখে।

জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ থাকায় কাওরান বাজার, সায়েন্সল্যাব এবং মৎস্য ভবন অভিমুখী সকল রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়লেও অনেকেই আন্দোলনের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শাহবাগ ও এর আশেপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আন্দোলনকারীরা ঘোষণা করেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনতা তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।


সূত্র: ১. ইনকিলাব মঞ্চের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সরাসরি বক্তব্য (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন নিউজ আর্কাইভ (বিগত ছাত্র আন্দোলনের রেকর্ড)। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: ১৯৫২-২০২৪ বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও গণআন্দোলন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency