প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন কিংবা যারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রতিপক্ষ, তারাই অতীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার জন্য আপস করেছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জিয়া পরিষদ আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "একমাত্র বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কোনো ধরনের আপস করেননি। নেত্রীর এই ত্যাগ ও আপসহীনতার জন্যই বিএনপির নেতাকর্মীরা আজ এতটা সাহসী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জ্বালানো সেই গণতন্ত্রের মশাল এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিএনপির কাছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরানোই এখন বড় লক্ষ্য।
একই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিক্রমা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯০০ সালের শুরু থেকেই এ ভূখণ্ডে অধিকার আদায়ের লড়াই চলছে:
১৯০০-১৯৪৭: বঙ্গভঙ্গ থেকে দেশভাগ পর্যন্ত সময়ে বাঙালি জাতি তার রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য খুঁজেছে।
১৯৭১-১৯৯০: মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন এবং পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকা তাকে 'দেশনেত্রী'র মর্যাদায় আসীন করে।
২০২৪-২০২৫: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে আসে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল এবং ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করার মধ্য দিয়ে একটি যুগের অবসান ঘটে।
২০২৬-এর নির্বাচন: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে সারা দেশে উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এটিই বিএনপির জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা, যেখানে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে বহু নেতা এসেছেন এবং গেছেন, কিন্তু বেগম জিয়ার মতো দীর্ঘকাল কারাবরণ ও আপসহীনতার নজির খুব কম। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই হবে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষণ: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, বিএনপি এখন শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটির ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং 'আপসহীন' ভাবমূর্তি বজায় রাখাই হবে বিএনপির প্রধান কৌশল। ১৯০০ সাল থেকে এ অঞ্চলের মানুষ বারবার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, আর ২০২৬ সালের নির্বাচন সেই লড়াইয়ের একটি চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: * জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিয়া পরিষদের শোকসভা (৭ জানুয়ারি, ২০২৬)।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও প্রেস উইং।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আর্কাইভ (১৯৭১-২০২৫)।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও অন্যান্য জাতীয় দৈনিক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |