প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা-১২ আসন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার পঞ্চম দিনে ফার্মগেটে প্রধান নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনকালে বিএনপি সমর্থিত ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল হক এক হুংকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে নতুন কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে এই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।”
বক্তব্যের শুরুতে তিনি ঢাকা-১২ আসনের ভোটারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সালাম জ্ঞাপন করেন। সাইফুল হক দাবি করেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশ যে দমন-পীড়ন ও লুটপাটের মধ্য দিয়ে গেছে, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার এখনই সময়।
ফার্মগেটের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় সাইফুল হক তেজতুরি বাজার, গ্রীন রোড ও ফার্মগেট অঞ্চলে জনসংযোগ করেন। তিনি বলেন, “ঢাকা-১২ আসনে কোদাল মার্কার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের গণসুনামিতে রূপ দিতে হবে।”
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের যাতনা তুলে ধরে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “এই এলাকার ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর চাঁদাবাজির শিকার। কোদাল মার্কা বিজয়ী হলে আর কাউকে অন্যায়ভাবে চাঁদা দিতে হবে না। রাষ্ট্রযন্ত্র আর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হবে না।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ দেশের মানুষ বারবার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯০০-১৯৭১): ১৯০০ সালের পরবর্তী বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি মোড়েই এ দেশের মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সাইফুল হক তাঁর বক্তব্যে সেই মুক্তি সংগ্রামের চেতনাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে টেনে এনে বলেন, ১৭ বছরের ‘কালো অধ্যায়’ থেকে মুক্তির সংগ্রাম এটি।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৫: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। ২০২৫ সাল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারকাল, যেখানে নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।
২০২৬-এর চূড়ান্ত পরীক্ষা: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে। সাইফুল হক সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশকে ‘জাহান্নাম’ থেকে উদ্ধার করার একটি মহাপ্রয়াস।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই প্রার্থীর গণসংযোগে এদিন হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আনোয়ারুজ্জান আনোয়ারসহ শীর্ষ নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কোদাল মার্কাকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা লক্ষ্য করা গেছে।
সূত্র: যুগান্তর, স্থানীয় সংবাদদাতা, নির্বাচন কমিশন বিফ্রিং এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ। বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, রাজনৈতিক প্রতিবেদক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |