| বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমিরের সেলফি নিয়ে চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা | ২০২৬ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-01-2026 ইং
  • 2327688 বার পঠিত
জামায়াত আমিরের সেলফি নিয়ে চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা | ২০২৬ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: চরমোনাই পীর

বেপর্দা নারীদের সঙ্গে সেলফি তোলা ইসলামি আন্দোলন হতে পারে না’: হাতীবান্ধায় চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদর্শিক লড়াই এখন তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। ১৯০০ সালের সূচনালগ্ন থেকে এ ভূখণ্ডের রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের যে প্রভাব ছিল, ২০২৬-এর নির্বাচনে তা এক নতুন ও তীক্ষ্ণ রূপ পরিগ্রহ করেছে।

জামায়াত আমিরের ‘সেলফি’ নিয়ে কটাক্ষ

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মহিলা বিএম কলেজ মাঠে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আমরা তো বলিনি ছেলেরা সরো, মেয়ে বন্ধুরা এখন তোমরা আসো। আর মুরুব্বি বেপর্দা মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তোলে। এটা তো ইসলামী আন্দোলন হতে পারে না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে তারা ইসলামের নীতি-আদর্শে দেশ চালাবেন না। রেজাউল করিম বলেন, “নির্বাচনে জামায়াতের যে জোট রয়েছে এবং বিএনপির যে জোট রয়েছে, তারা কেউই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করবে না। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষণা করেছে—ইসলামের পক্ষে মাত্র একটিই বাক্স রয়েছে, সেটি হলো হাতপাখা।”

মানবিক কাজ ও রাজনীতির সেতুবন্ধন

বক্তব্যে তিনি বিগত বছরগুলোর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের (২০২৪) পটপরিবর্তনের পর যখন দেশে অরাজকতা চলছিল, তখন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা সংখ্যালঘুদের জান-মাল ও ইজ্জত রক্ষায় পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করেছে। এমনকি কোভিডের কঠিন সময়েও ঝুঁকি নিয়ে আমরা মৃত মানুষের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছি। আমরা সবসময় মানুষের খাদেম হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি।”

তিনি লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিম শাহরিয়ারের পক্ষে হাতপাখা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে বলেন, “নীতি ও শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনার জন্য হাতপাখাই একমাত্র ভরসা।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ বিবর্তন লক্ষ্য করলে দেখা যায়:

  • ১৯০০-১৯৪৭: বিশ শতকের শুরুতে এই অঞ্চলে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত ইসলামি মূল্যবোধ ও বাঙালির অধিকার ছিল সমান্তরাল।

  • ১৯৭১-২০২৪: স্বাধীনতার ৫৪ বছরে নানা দল ক্ষমতায় এলেও ইসলামি শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি বারবার উপেক্ষিত হয়েছে বলে দাবি করেন ইসলামি দলগুলোর নেতারা। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর।

  • ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ২০২৪-২৫ সালে আওয়ামী লীগের পতন ও পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শিক সংঘাত। বিশেষ করে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার এই বিরোধ ২০২৬-এর নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার এই 'বাকযুদ্ধ' স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা একই ভোটব্যাংকের দখল নিতে মরিয়া। ১৯০০ সালের সেই খেলাফত আন্দোলন বা ধর্মীয় জাগরণের চেতনাকে পুঁজি করে চরমোনাই পীর নিজেকে একমাত্র 'বিশুদ্ধ' ইসলামি শক্তি হিসেবে জাহির করতে চাইছেন। অন্যদিকে জামায়াতের আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রচেষ্টাকে তিনি 'শরিয়াহ বিরোধী' হিসেবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। এই আদর্শিক সংঘাত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।

সূত্র: * নিজস্ব প্রতিবেদক ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬)

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency