| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন মোড়: মোদির অভিনন্দন ও তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-02-2026 ইং
  • 3541838 বার পঠিত
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন মোড়: মোদির অভিনন্দন ও তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জ।
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন মোড়

দিল্লির সতর্ক অভিনন্দন ও ঢাকার নতুন সমীকরণ: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ‘রিসেট’ কি সম্ভব?

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ বাংলায় একটি পোস্ট দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মোদির এই অভিনন্দনের ভাষা ছিল ইতিবাচক ও উষ্ণ, তবে কূটনীতিকদের মতে এতে রয়েছে গভীর সতর্কবার্তাও।

মোদির বার্তা ও ভারতের অবস্থান

নরেন্দ্র মোদি তাঁর বার্তায় একটি 'গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক' বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তারেক রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের পর ভারতকে দেখা যাচ্ছে তার দীর্ঘদিনের ‘একমুখী’ বিনিয়োগ থেকে সরে এসে একটি বাস্তববাদী ও ‘রাষ্ট্র-টু-রাষ্ট্র’ সম্পর্কের দিকে ঝুঁকতে।

ঐতিহাসিক সম্পর্কের টানাপোড়েন (১৯০০ - ২০২৬)

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আজকের ২০২৬ সালের নতুন সমীকরণে এসে দাঁড়িয়েছে।

  • ২০০১-২০০৬: বিএনপির শাসনামলে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল।

  • ২০১৪-২০২৪: শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে ‘সোনালি অধ্যায়’ রচিত হয়েছিল, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তা ওলটপালট করে দেয়।

  • ২০২৬: বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ায় এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার আমূল পরিবর্তন হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে এক অদৃশ্য অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হয়েছে।

দিল্লি-ঢাকা-ইসলামাবাদ: নতুন ত্রিভুজ

দিল্লির জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা ও ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়া এবং পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া দিল্লির কৌশলগত ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি যখন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ঘোষণা করছে, তখন ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় ঢাকার সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

দিল্লির ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের স্মৃতি পট্টনায়ক ও অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্তের মতে, সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতকে ‘বড় প্রতিবেশী’ হিসেবে আরও সংযত হতে হবে। অন্যদিকে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে হবে। তিস্তা পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুই দেশকে বাস্তববাদী কূটনীতির পরিচয় দিতে হবে।

উপসংহার

ভৌগোলিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত ঢাকা ও দিল্লিকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে। প্রশ্ন এখন এটিই—কে আগে বাড়িয়ে দেবে বন্ধুত্বের হাত এবং কতটা আন্তরিকতার সাথে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency