প্রশাসনে গতি আনতে শনিবারও অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাষ্ট্র পরিচালনায় আমূল পরিবর্তন ও প্রশাসনে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে নিয়মিত কর্মদিবসের পাশাপাশি প্রতি শনিবারও তিনি দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করবেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস করতে এসে তিনি এই নতুন কর্মপরিকল্পনার কথা জানান। তার এই উদ্যোগকে নতুন বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কারের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বাঙালির প্রশাসনিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে শাসনব্যবস্থা ছিল মূলত নিয়ন্ত্রণমূলক এবং সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষ সবসময়ই একটি জনবান্ধব ও গতিশীল প্রশাসনের স্বপ্ন দেখেছে। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেলেও গত দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনামলে প্রশাসন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে বের হয়ে ২০২৬ সালের এই ‘সেবামুখী প্রশাসন’ গড়ার প্রত্যয় নতুন বাংলাদেশের এক সাহসী চিত্র।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তারেক রহমান বেশ কিছু প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত (Duty-free) গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার ব্যাপারে তিনি যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়াও মন্ত্রীদের অতিরিক্ত বাহুল্য খরচ পরিহার করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি সরকারি প্রটোকলের পরিবর্তে নিজস্ব গাড়িতে যাতায়াত করে মিতব্যয়িতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার দপ্তরে প্রবেশ করেন। এদিন তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ পরিকল্পনা এবং ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও তিনি তিন বাহিনীর প্রধান এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সংস্কার কাজ চলায় তিনি সাময়িকভাবে সচিবালয় থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।
সূত্র: ১. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. বিএনপির মিডিয়া সেল ও জাতীয় সংবাদ সংস্থা (বাসস)। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন। ৪. সমসাময়িক অনলাইন সংবাদ ও আরটিভি নিউজ।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শনিবার অফিস করার সিদ্ধান্ত এবং বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করার বিষয়টি জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপটে শাসকরা যেখানে বিলাসিতায় মগ্ন থাকতেন, ২০২৬ সালে এসে প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকে ‘কাজের সংস্কৃতি’ পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন। বিশেষ করে রমজানের এই সময়ে ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের তদারকি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে। এই পরিবর্তনগুলো সফল হলে বাংলাদেশ একটি সত্যিকার অর্থে আধুনিক ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |