| বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদের উপনেতা কে? ড. মোশাররফ, মঈন খান না গয়েশ্বর রায়—বিএনপির নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষণ |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-03-2026 ইং
  • 1823374 বার পঠিত
ত্রয়োদশ সংসদের উপনেতা কে? ড. মোশাররফ, মঈন খান না গয়েশ্বর রায়—বিএনপির নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষণ |
ছবির ক্যাপশন: ত্রয়োদশ সংসদের উপনেতা কে

সংসদীয় আভিজাত্য ও উপনেতা পদের উত্তরাধিকার—এক বিশেষ রাজনৈতিক ব্যবচ্ছেদ

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) ব্রিটিশ সংসদীয় রীতিতে "লিডার অফ দ্য হাউস" এবং তাঁর সহকারীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৯১ সালে অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মাধ্যমে বিএনপি যে সংসদীয় আভিজাত্য শুরু করেছিল, মাঝপথে নেতাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণে (মান্নান ভূঁইয়া বনাম সাইফুর রহমান কিংবা মওদুদ বনাম সাকা চৌধুরী) তা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। ২০২৬ সালের এই ৪ঠা মার্চ, ত্রয়োদশ সংসদের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—যোগ্য অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা।

সংসদ উপনেতা পদের শীর্ষ ৪ প্রার্থীর সম্ভাবনা ও ঐতিহাসিক অবস্থান বিশ্লেষণ:

১. ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: অভিজ্ঞতার বাতিঘর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য হিসেবে তাঁর অবস্থান প্রশ্নাতীত।

  • বিশ্লেষণ: যেহেতু তাঁকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি, তাই সংসদীয় রীতিনীতি ও প্রটোকল রক্ষায় তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব "সংসদ উপনেতা" পদের জন্য সবচেয়ে মানানসই। ১৯০০-এর দশকের সেই ধ্রুপদী রাজনীতিকদের মতো তাঁর ব্যক্তিত্ব সংসদে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম।

২. ড. আব্দুল মঈন খান: আধুনিক সংসদীয় চেতনার প্রতীক

অক্সফোর্ড শিক্ষিত ড. মঈন খান তাঁর জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি এবং মার্জিত আচরণের জন্য সুপরিচিত।

  • তাত্ত্বিক অবস্থান: সংসদ নেতার অনুপস্থিতিতে হাউজ পরিচালনা করার জন্য যে ধরণের ভাষাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকল জ্ঞান প্রয়োজন, তার সবটুকুই তাঁর মধ্যে বিদ্যমান। তিনি উপনেতা হলে সংসদের বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ড উচ্চতর হবে।

৩. গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: রাজপথ ও রাজনীতির রসায়ন

তিনি স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ এবং ত্যাগী নেতা।

  • সাংগঠনিক গুরুত্ব: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এবং দীর্ঘদিনের আপসহীন ভূমিকার কারণে তাঁকে এই সম্মানজনক পদে আসীন করা হতে পারে। তবে তিনি সংসদীয় কাঠামোর চেয়ে সাংগঠনিক রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী কি না, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

৪. সেলিমা রহমান: নারীর ক্ষমতায়নের মাইলফলক

বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী বা সাজেদা চৌধুরীর মতো কোনো নারী জ্যেষ্ঠ নেতাকে এই পদে আনতে চায়, তবে সেলিমা রহমানই একমাত্র বিকল্প।

  • চ্যালেঞ্জ: তাঁকে সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করে আনতে হবে। তারেক রহমান যদি "নারী নেতৃত্ব" এবং "জ্যেষ্ঠতা"—এই দুয়ের সমন্বয় চান, তবে সেলিমা রহমান চমক হিসেবে আসতে পারেন।


বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

১৯০০ সালের সেই প্রথাগত সংসদীয় রীতি থেকে ২০২৬ সালের এই "নতুন বাংলাদেশ"—সংসদ উপনেতা পদটি এখন সংহতির প্রতীক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও অধ্যাপক ডা. বি চৌধুরী যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার সেই পথেই হাঁটতে চাইছে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের অভিজ্ঞতা নাকি ড. মঈন খানের মেধা—তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা ১২ মার্চের অধিবেশনেই স্পষ্ট হবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, এই পদে যারাই আসবেন, তাদের মূল চ্যালেঞ্জ হবে ত্রয়োদশ সংসদকে একটি প্রকৃত কার্যকর সংসদে রূপান্তর করা।


তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ডায়েরি (১৯৯১-২০০১), বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের রেকর্ডস এবং ৪ মার্চ ২০২৬-এর রাজনৈতিক বুলেটিন।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও গভীর রাজনৈতিক ও সংসদীয় সংস্কার বিষয়ক বিশ্লেষণ পেতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency