লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ছয় সপ্তাহের বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ার খবর পাওয়া গেলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় যুদ্ধ শুরুর সতর্কতা দিয়েছেন। খবর টাইমস অব ইসরাইল-এর।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। বুধবার একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পরবর্তী আলোচনা নিয়ে তারা ইতিবাচক এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে আশা করছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সামনে একটি ‘বড় সমঝোতা’ (Grand Bargain) প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো—দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধের সমাধান করা এবং বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটানো। মধ্যস্থতাকারীরা মূলত তিনটি বিষয়ে সমাধানের পথ খুঁজছেন:
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা।
যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ।
শান্তি আলোচনার আবহের মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে তেলের উচ্চমূল্য খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, তাদের অবরোধে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ। তবে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নিলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোনো জাহাজ চলতে দেওয়া হবে হবে না। এমনকি সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টারা মার্কিন জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করারও হুমকি দিয়েছেন।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন একটি জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে হোয়াইট হাউস কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইসরাইল সামরিক শক্তিতে অনড়। এই দ্বিমুখী অবস্থানের ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামীর বিশ্ব শান্তি ও তেলের বাজার।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
| আলোচনার সম্ভাব্য স্থান | ইসলামাবাদ, পাকিস্তান। |
| মার্কিন প্রস্তাব | 'বড় সমঝোতা'র মাধ্যমে ৬ সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান। |
| ইরানি অবস্থান | ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে আলোচনায় রাজি, তবে অধিকার ছাড়বে না। |
| ইসরাইলি অবস্থান | সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি চালুর শর্ত। |
টাইমস অব ইসরাইল: ১৬ এপ্রিল ২০২৬-এর বিশেষ প্রতিবেদন।
হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিং: ক্যারোলিন লেভিট ও জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য।
আইএমএফ (IMF): বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি মূল্য নিয়ে সতর্কতা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |