| বঙ্গাব্দ

মামলা জট কমাতে ‘লিগ্যাল এইড’ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-04-2026 ইং
  • 13467 বার পঠিত
মামলা জট কমাতে ‘লিগ্যাল এইড’ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর
ছবির ক্যাপশন: আইনমন্ত্রী

মামলা জট কমাতে ‘লিগ্যাল এইড’ আরও কার্যকর করার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed

তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বিভাগ: আইন ও বিচার / জাতীয়

উৎস: (সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়াম রিপোর্ট)

দেশের বিদ্যমান মামলা জট কমাতে লিগ্যাল এইড বা সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও বেশি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

১. ন্যায়বিচার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার

আইনমন্ত্রী বলেন, “ন্যায়বিচার মানুষের শাশ্বত ও সহজাত অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড সেবাকে দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। কেবল সচ্ছল ব্যক্তিরাই নয়, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং অসহায় মানুষ যাতে আইনি লড়াইয়ে পিছিয়ে না পড়ে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

২. লিগ্যাল এইডের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে লিগ্যাল এইড বা সরকারি আইনি সহায়তার ধারণাটির সূত্রপাত নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন:

  • উদ্যোগ: ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য একটি আইনি সহায়তা তহবিল গঠন করেন।

  • বর্তমান লক্ষ্য: ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

৩. বিচার বিভাগের বাজেট বৃদ্ধির আশ্বাস

মন্ত্রী স্বীকার করেন যে, বিচার বিভাগের বর্তমান বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমানে বিচার বিভাগের জন্য প্রায় ২২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তিনি বলেন:

“লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এবং বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অতিরিক্ত অর্থায়ন জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতে বাজেট বাড়ানোর জন্য আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

৪. বিশেষ উপস্থিতি

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচারক, আইনজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আরও অনেকে।


এক নজরে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা

বিষয়বর্তমান অবস্থা ও পরিকল্পনা
বাজেটবর্তমানে ২২০০ কোটি টাকা (আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা)।
মূল লক্ষ্যমামলা জট কমানো ও অসহায়দের ফ্রিতে আইনি সহায়তা।
ঐতিহাসিক ভিত্তি১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক তহবিল গঠন।
উপকারভোগীদরিদ্র ও আইনি অধিকার বঞ্চিত সাধারণ নাগরিক।

বিডিএস লিগ্যাল অ্যানালাইসিস (Editorial Insight)

মামলা জট বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। লিগ্যাল এইড কার্যক্রম শক্তিশালী হলে অনেক সাধারণ বিরোধ আদালতেই মিটে যেতে পারে, যা উচ্চ আদালতের ওপর চাপ কমাবে। আইনমন্ত্রীর বাজেট বৃদ্ধির আশ্বাসটি ইতিবাচক, তবে তহবিলের সুষ্ঠু বণ্টন এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে এই তথ্যের সঠিক প্রচারণা নিশ্চিত করাই হবে আসল সার্থকতা।


পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে পর্যাপ্ত সচেতনতা রয়েছে? কমেন্টে জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency