প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০৫ সালের রাজনৈতিক বিবর্তন থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশ—ইতিহাসের পাতায় অনেক চড়াই-উতরাই এলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা দেশের ইতিহাসে একক বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারি হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার (৫ বিলিয়ন) আত্মসাৎ করেছেন পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কেন্দ্র নির্মাণে সাধারণত ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। অথচ রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার। অভিযোগ রয়েছে, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বড় অংশই মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের গোপন অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম (Rosatom) এই অর্থ আত্মসাতে সরাসরি মধ্যস্থতা করেছে বলে ‘গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই বিশাল অংকের অর্থ পাচারে মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয় এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত টিউলিপ সিদ্দিক। রাশিয়ার বিশেষ তহবিল থেকে মালয়েশিয়ার ব্যাংকে এই অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে অর্থ লোপাটের সুযোগ করে দিয়েছে রোসাটম। যদিও রোসাটম আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, কিন্তু পিডিবি’র কর্মকর্তাদের মতে, রোসাটম প্রকল্পের ব্যয়ের নথিপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানানোয় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
১৬ মাস আগে এই দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, বিদেশের ব্যাংকগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠানো মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (MLAR) প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং বর্তমানে কমিশনে নীতিনির্ধারক না থাকায় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, "প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো মানেই দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া। বর্তমান সরকারের উচিত জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে এই মেগা দুর্নীতির অধিকতর তদন্ত নিশ্চিত করা।"
এত বিতর্কের মাঝেও মঙ্গলবার রূপপুর কেন্দ্রের একটি ইউনিটে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। তবে পুরো জাতির কাছে প্রশ্ন—এই বিদ্যুৎ কি উন্নয়নের আলো ছড়াবে, নাকি ৫৯ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা হয়ে আগামী প্রজন্মের ঘাড় চেপে ধরবে? আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই বিশাল দুর্নীতির দায়ভার এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের কাঁধে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
ইউরেনিয়ামের রহস্য: রূপপুরে ব্যবহৃত $U-235$ এর নিম্ন ঘনত্ব ($3-5\%$) বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিরাপদ হলেও, এর নির্মাণ ব্যয়ের অস্বচ্ছতা প্রকল্পটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: যখন বাংলাদেশে রূপপুর নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি-র মাধ্যমে ইরানের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
সাফল্যের দর্শন: ব্রুস লির সেই অমোঘ বাণী—"কাজই পরিচয়"—আজ রূপপুর প্রকল্পের ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে সত্য হচ্ছে। কারণ এখানে কাজের চেয়ে অর্থ লোপাটের গল্পই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপসংহার:
১৯০৫ থেকে ২০২৬—বাঙালি জাতি সবসময় শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে যে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, তা কেবল একটি পরিবারের দুর্নীতি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এক বড় আঘাত। দুদক যদি দ্রুত এই সাপ বের করতে না পারে, তবে এই ১২ বিলিয়ন ডলারের বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প, দৈনিক যুগান্তর, টিআইবি, এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক আর্কাইভ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |