বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ০৩ মে ২০২৬
বার্লিন/ওয়াশিংটন: শীতল যুদ্ধোত্তর যুগে ইউরোপের নিরাপত্তা স্থাপত্যে সবচেয়ে বড় কম্পন অনুভূত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে ‘অনুমিত’ বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। তবে ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই সংখ্যা আরও বড় পরিসরে বাড়তে পারে, যা ৩২ সদস্যের ন্যাটো জোটের অস্তিত্বকে গভীর চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে গত সোমবার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের একটি মন্তব্য। তিনি ওয়াশিংটনের ইরান কৌশলের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ইরানি আলোচকরা আমেরিকানদের ‘অপদস্থ’ করেছে এবং তাদের কৌশলহীনভাবে ‘ইসলামাবাদ’ পর্যন্ত ঘুরিয়ে এনেছে।
ট্রাম্পের পাল্টা আঘাত: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প মেরৎসকে আক্রমণ করে বলেন, চ্যান্সেলর জানেন না তিনি কী বলছেন। এর পরপরই পেন্টাগন জার্মানি থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেয়।
হরমুজ প্রণালি ইস্যু: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই পরিস্থিতিকে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্প্রদায়ের জন্য ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বাইরের শত্রুর চেয়ে জোটের ভেতরের এই ভাঙনই ইউরোপকে বেশি অরক্ষিত করে তুলছে।
ইতালি ও স্পেনেও কোপ: ট্রাম্প কেবল জার্মানি নয়, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য এখন ইউরোপ থেকে সামরিক মনোযোগ সরিয়ে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চলে (চীনের বিরুদ্ধে) জোর দেওয়া।
ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল—জার্মানি ন্যাটোর নির্ধারিত ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ। তবে চ্যান্সেলর মেরৎসের অধীনে জার্মানি এখন সঠিক পথে রয়েছে বলে দাবি করেছেন পিস্টোরিয়াস।
বাজেট বৃদ্ধি: ২০২৭ সালে জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় ১০৫.৮ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছাবে, যা দেশটির জিডিপির ৩.১ শতাংশ।
ন্যাটোর নতুন লক্ষ্য: গত বছর দ্য হেগ সম্মেলনে ন্যাটো সদস্যরা জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, জার্মানি সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ৫ হাজার সেনার এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হতে পারে। বর্তমানে জার্মানিতে ৩৬ হাজার সক্রিয় মার্কিন সেনা রয়েছে, যা ইউরোপের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি। এই বিশাল সেনা উপস্থিতি কমে গেলে পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাব ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতা রজার উইকার ও মাইক রজার্স।
জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয়, এটি মূলত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং মেরৎসের ‘ইউরোপীয় সার্বভৌমত্ব’—এই দুই আদর্শের সংঘাত ন্যাটোকে একটি অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপকে এখন মার্কিন ছত্রছায়া ছাড়াই নিজস্ব নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।
তথ্যসূত্র ও গবেষণা সূত্র (Reference List):
প্রতিবেদন: বিবিসি নিউজ (BBC) এবং জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ (dpa)।
বিবৃতি: ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট-এর অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট।
নথি: পেন্টাগন মিডিয়া ব্রিফিং (শুক্রবার, মে ২০২৬) - মুখপাত্র শন পারনেল।
তথ্য: দ্য হেগ ন্যাটো সম্মেলন ২০২৫-এর প্রতিরক্ষা ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা সংক্রান্ত রেজোলিউশন।
বিশ্লেষণ: ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন - ‘The Fraying Alliance: US-Germany Relations’।
বিশেষ বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |