প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা জনপ্রিয়তার চেয়ে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ বেছে নেন। আজ সকালে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৩৯ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের এক ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিচার বিভাগের অতীত সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: একজন বিচারকের প্রকৃত স্বাধীনতা তাঁর মনন, চিন্তা-চেতানির্ভর এবং কর্মের মাধ্যমেই তিনি প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
তদবির সংস্কৃতি বর্জন: পোস্টিং বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পেছনে দৌড়ালে বিচারকের নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি অবিচার করা হয়।
শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ নয়: বিচার বিভাগে আর কোনো 'শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ' চায় না বর্তমান সরকার। কোনো বিচারকের নেতিবাচক আচরণের কারণে পুরো বিচার ব্যবস্থার ওপর যেন মানুষের অনাস্থা না আসে, সেদিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জবাবদিহিতা: বিগত সরকারের আমলে যারা রাতে বিচারকার্য পরিচালনা করে বিরোধী পক্ষকে দমন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক—উভয় প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধেই আপসহীন অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যর্থ হলে আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ব্যর্থ হবে, যা হবে ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়।
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার বিবর্তন এবং ন্যায়বিচারের সংগ্রাম ১৯০০ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ঔপনিবেশিক প্রভাব (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থা মূলত শাসনকার্য পরিচালনার হাতিয়ার ছিল। তখন থেকেই নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের আকাঙ্ক্ষা দানা বাঁধতে শুরু করে।
স্বাধীনতা ও সংবিধানের স্বপ্ন (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল মূলত শোষণ ও অবিচার থেকে মুক্তির অঙ্গীকার। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও দীর্ঘ সময় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও ২০২৪-এর বিপ্লব: ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগ পৃথক হলেও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারেনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বিচার বিভাগকে প্রকৃত অর্থে 'মেরুদণ্ডহীনতা' থেকে মুক্ত করার এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
২০২৬-এর বর্তমান সংস্কার: ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ এখন এক গভীর রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইনমন্ত্রীর আজকের বক্তব্যে যে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার কথা এসেছে, তা মূলত ১৯০০ সালের পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের স্বাধীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ারই এক অবিরাম প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এদেশের বিচারপ্রার্থী মানুষের প্রধান দাবি ছিল একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ। আইনমন্ত্রীর এই আহ্বান যে কোনো ধরনের বেআইনি হস্তক্ষেপ ছাড়াই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিচারকদের সাহসী ভূমিকা জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের একমাত্র চাবিকাঠি হতে পারে।
সূত্র: ১. আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য (৯ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের বিচার বিভাগের বিবর্তন ও শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)। ৩. বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |