প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যেসব দেশ তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করবে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের সময় তাদের নিশ্চিতভাবে ‘অসুবিধার’ সম্মুখীন হতে হবে। রোববার (১০ মে, ২০২৬) ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামি নিয়া এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল দিকগুলো হলো:
ষড়যন্ত্র নস্যাৎ: জেনারেল দাবি করেন, ইরানকে দমানোর জন্য শত্রুপক্ষের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি এবং দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য অটুট রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব: মার্কিন নৌ-অবরোধের মধ্যে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেবে, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী রূপ পায়নি।
মার্কিন নৌ-অবরোধ: গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি সামুদ্রিক যানের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে।
ট্রাম্পের অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখলেও ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান এখন প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির এই অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের, কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসও বৈশ্বিক এই শক্তি প্রতিযোগিতার প্রভাবমুক্ত নয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ প্রভাব (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি ও সামুদ্রিক পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরাশক্তিগুলোর লড়াই এ অঞ্চলেও প্রভাব ফেলেছিল। তখন ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করত।
স্বাধীনতা ও জ্বালানি নীতি (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা। স্বাধীনতার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
২০২৪-এর বিপ্লব ও ২০২৬-এর সংস্কার: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের বর্তমান ‘নতুন বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা—উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে ২০২৬ সালের এই সার্বভৌম বাংলাদেশে আমাদের শিক্ষা হলো—বৈশ্বিক সংঘাতের মাঝেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বা সেখানে যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হরমুজ প্রণালি সবসময়ই বৈশ্বিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ‘চোখ পয়েন্ট’ (Choke Point) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯০০ সালের ভূ-রাজনৈতিক লড়াই হোক কিংবা ২০২৬ সালের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধ—সামুদ্রিক পথের নিয়ন্ত্রণ মানেই বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ। ইরানের এই হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ্ব নেতাদের আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো জরুরি।
সূত্র: ১. তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও রয়টার্স (১০ মে, ২০২৬)। ২. হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতি)। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |