প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার থাকায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজটি পরিকল্পিত ‘সাইবার আক্রমণের’ মাধ্যমে অচল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। ভুয়া ‘ইমপারসোনেশন’ (অন্য ব্যক্তির পরিচয় ধারণ) অভিযোগ তুলে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা পেজটি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) নিজের বিকল্প ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এই ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে বিএনপি নেতা রাশেদ খান তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে চালানো এই ডিজিটাল অপারেশনের বিবরণ ও ক্ষোভ তুলে ধরেন:
ভুয়া অভিযোগ: রাশেদ খান বলেন, "আমার পেজের বিরুদ্ধে impersonation-এর ভুয়া অভিযোগ করে পেজটি অচল করে দেওয়া হয়েছে। অথচ এটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব পেজ।"
যুক্তিতর্কের অভাব: তিনি প্রতিপক্ষকে নিশানা করে বলেন, যারা যুক্তিতর্কে মোকাবিলা করতে পারে না এবং গালিগালাজ যাদের একমাত্র সম্বল, তারা মনে করছে পেজ বন্ধ করে দিলেই তাঁর কণ্ঠ রোধ করা যাবে।
পূর্ববর্তী সাইবার হামলা: তিনি জানান, এটিই প্রথম নয়; এর আগেও তাঁর বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত আইডি একইভাবে ডিজঅ্যাবল বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল।
বাকস্বাধীনতার ভাওতাবাজি: চলমান এই সাইবার হয়রানির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, "এই হলো তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নামের ভাওতাবাজি!"
ফেসবুক পোস্টের নিচে মন্তব্য ও কমেন্ট সেকশনে তিনি পরিষ্কার ইঙ্গিত দেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ‘গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে’ তীব্র লেখালেখি করার কারণেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুসংগঠিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এই সাইবার অপারেশন চালিয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ বা গোষ্ঠীর নাম প্রকাশ করেননি।
বিএনপি নেতা রাশেদ খানের ফেসবুক পেজ গায়েব হওয়া এবং সাইবার আক্রমণের এই ঘটনা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, সেন্সরশিপ ও প্রচারমাধ্যমের বিবর্তনের একটি আধুনিক চিত্র।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও প্রেস অ্যাক্ট (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম ছিল লিফলেট, প্যামফ্লেট এবং হাতে গোনা কয়েকটি পত্রিকা। ১৯০৮ সালের ‘নিউজপেপারস (ইনসাইটমেন্ট টু অফেন্সেস) অ্যাক্ট’ বা প্রেস আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসকরা স্বাদেশিক ও বৈপ্লবিক লেখালেখি বাজেয়াপ্ত করত। ১৯০০ সালের সেই কাগুজে প্রেস ও সেন্সরশিপের আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল সেন্সরশিপ—পদ্ধতি বদলালেও ভিন্নমত দমনের চেষ্টা একই রয়ে গেছে।
স্বাধীনোত্তর দলীয় মুখপত্র ও লাঠিয়াল সংস্কৃতি (১৯৭১-১৯৯০): সত্তর ও আশির দশকে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য বা লেখালেখি বন্ধ করতে পত্রিকার অফিস ভাঙচুর বা সরকারিভাবে প্রেস বন্ধের সংস্কৃতি ছিল। ১৯০০ সালের পর থেকে ২০ extraction২৬ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মুদ্রণ মাধ্যম থেকে রাজনীতি ধীরে ধীরে ইন্টারনেট মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর সাইবার রিয়ালিটি: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফেসবুক, ইউটিউব এবং সাইবার অ্যাক্টিভিজম স্বৈরাচার পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই মে মাসে এসে দেখা যাচ্ছে, সেই একই সোশ্যাল মিডিয়া এখন রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও প্রতিপক্ষের আইডি ‘ম্যাস রিপোর্ট’ (Mass Report) করে গায়েব করার এক নতুন ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই গোপন ছাপাখানার যুগ থেকে ২০২৬ সালের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যালগরিদমের যুগে পৌঁছে আমরা দেখছি যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন ‘রিপোর্ট ও সাইবার অ্যাটাক’-এর বেড়াজালে বন্দি। রাশেদ খানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশেও ভিন্নমত প্রকাশের পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষিত রাখা রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
ইতিহাস সাক্ষী, কোনো যুগে কোনো নেতার বা মতাদর্শের কণ্ঠ কেবল প্রচারমাধ্যম বন্ধ করে স্তব্ধ করা যায়নি। ১৯০০ সালের সেই বাজেয়াপ্ত হওয়া পত্রিকার লিফলেট থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজঅ্যাবল হওয়া ফেসবুক পেজ—ইতিহাসের শিক্ষা এটাই যে, বিকল্প পথ সবসময় তৈরি হয়। রাশেদ খানের ফেসবুক পেজ গায়েব হওয়া প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের এই মে মাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠ কেবল রাজপথে নয়, বরং সাইবার স্পেস বা সমান্তরাল ডিজিটাল জগতেও সমান উত্তপ্ত। মতপ্রকাশের এই স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং সাইবার বুলিং বা ভুয়া রিপোর্টিং কালচার বন্ধ করাই হবে আগামীর সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার প্রধান শর্ত।
সূত্র: ১. বিএনপি নেতা রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট ও সাইবার আক্রমণ সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিবৃতি (১৬ মে, ২০২৬)।
২. ঐতিহাসিক দলিল: বিংশ শতাব্দীতে বাংলায় রাজনৈতিক সেন্সরশিপ এবং ডিজিটাল যুগের সাইবার পলিটিক্সের ইতিহাস (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |