মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা আপেক্ষিক শান্ত ও স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির পরিবেশ ভেঙে নতুন করে উত্তেজনার আগুন জ্বলে উঠেছে। দক্ষিণ ইরানে আকস্মিকভাবে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত থাকা কিছু সামরিক স্পিডবোটকে লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি মূলত ‘আত্মরক্ষা’ এবং আঞ্চলিক ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার স্বার্থে একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন:
"চলমান যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেই এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জারি রাখা হয়েছে।"
মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেন হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির অত্যন্ত কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী ‘বন্দর আব্বাস’-এর কাছে এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়। এই উপকূলীয় শহরটিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) তথা ইরানের একটি অন্যতম বড় নৌ ঘাঁটি রয়েছে।
এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, সোমবার বন্দর আব্বাস নগরী ও এর আশেপাশের এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে। স্থানীয় প্রশাসন তখন থেকেই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছিল।
┌────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ট্রাম্পের সুর বদলের বহুমাত্রিক প্রভাব │
└───────────────────────────┬────────────────────────────┘
│
┌──────────────────┴──────────────────┐
▼ ▼
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আঞ্চলিক মিত্রদের চাপ
- হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার শঙ্কায় - ইসরায়েলের নেতানিয়াহু কর্তৃক ইরানি
জ্বালানি তেলের দাম চড়া শাসনব্যবস্থা পতনের পক্ষে লবিং
এই বিমান হামলার বিষয়ে ইরান সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা জবাবের কথা জানানো হয়নি। তবে এই আকস্মিক হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে চলতে থাকা সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বড় ধরণের ধোঁয়াশা ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহান্তেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উভয় পক্ষ একটি বড় চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু এর পরপরই তিনি আকস্মিকভাবে তাঁর সুর বদল করেন এবং মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের এই চুক্তির বিষয়ে কোনো ধরণের তাড়াহুড়ো না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের এই সুর বদলের পরেই দক্ষিণ ইরানে এই মার্কিন বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটল।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: একজন সিনিয়র এসইও কনসালটেন্ট এবং আন্তর্জাতিক পলিটিক্যাল কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে আমি দেখছি, ২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি প্রতি মুহূর্তে রঙ পাল্টাচ্ছে। একদিকে যখন তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসার খবরে বিশ্ব বাজারে স্বস্তি ফিরছিল, ঠিক তার পরদিনই এই বিমান হামলা প্রমাণ করে যে—কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও পর্দার আড়ালের সমীকরণ এখনো কতটা ভঙ্গুর। ট্রাম্প প্রশাসনের এই 'চাপ সৃষ্টি করার কৌশল' (Pressure Tactics) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামকে আবারো ঊর্ধ্বমুখী করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ঠিক প্রবেশদ্বারে অবস্থিত বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইন আবারো বড় ধরণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যদি ইরান এই হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার চলাচলে নতুন কোনো কড়াকড়ি আরোপ করে, তবে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পুনরায় আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারকেও নতুন করে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |