| বঙ্গাব্দ

জুনেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, গ্রাহকদের ওপর ২০% পর্যন্ত বাড়তি খরচের চাপ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-06-2026 ইং
  • 3324 বার পঠিত
জুনেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, গ্রাহকদের ওপর ২০% পর্যন্ত বাড়তি খরচের চাপ
ছবির ক্যাপশন: জুনেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

পবিত্র ঈদুল আজহা শেষ হতে না হতেই দেশের সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য আসছে বড় ধরণের বাড়তি খরচের চাপ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) খুব শিগগিরই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন খুচরা মূল্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিইআরসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এবার খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নতুন এই ট্যারিফ বা মূল্যহার চলতি জুন মাস (২০编制) থেকেই কার্যকর করার সব ধরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই বিদ্যুৎ মূল্য সমন্বয়ের বিস্তারিত পরিকল্পনা, বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব এবং গ্রাহক ভেদে খরচের তারতম্য নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

১. ‘লাইফ লাইন’ গ্রাহকরা পাচ্ছেন স্বস্তির খবর

বিদ্যুতের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ার আভাস থাকলেও দেশের নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর রেখেছে বিইআরসি:

  • লাইফ লাইন সুবিধা বহাল: নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত ‘লাইফ লাইন’ (Life Line) ক্যাটাগরির বিদ্যুৎ মূল্যে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

  • ইউনিট সীমা: আগের নিয়ম অনুসারেই যেসকল গ্রাহক প্রতি মাসে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তারা বর্তমানের সাশ্রয়ী সুবিধা ও মূল্যহার অপরিবর্তিত অবস্থায় উপভোগ করতে পারবেন।

২. আইএমএফ-এর শর্ত ও মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ

মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে সরকারের করা ঋণ চুক্তির শর্ত পূরণের অংশ হিসেবেই এই বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমিয়ে মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন: এই লক্ষ্যে দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।

  • মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ: ওই কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এবং আইনি নিয়ম অনুযায়ী বিইআরসির মাধ্যমে দ্রুত তা বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে।

৩. যেভাবে ধাপে ধাপে বাড়বে বিদ্যুতের বিল

বিইআরসির এক কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ইউনিট প্রতি মূল্যবৃদ্ধি ১ টাকার কম হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে বিল নির্ধারণ করা হবে:

  1. ২০০ ইউনিট পর্যন্ত: এই ক্যাটাগরির সাধারণ মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে দাম বাড়ানো হবে।

  2. ২০০ থেকে ৪০০ এবং ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট: এই দুই স্ল্যাবের ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে কিছুটা উচ্চহারে মূল্য বৃদ্ধি করা হবে।

  3. ৬০০ ইউনিটের বেশি: বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ৬০০ ইউনিট পার হলে সেই বিলাসী গ্রাহকদের ওপর সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধির চাপ বা পেনাল্টি ট্যারিফ কার্যকর হবে।

৪. এক নজরে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব ও কারিগরি কমিটির সুপারিশ

গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল। তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

কোম্পানিভিত্তিক বিদ্যুৎ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবনার চিত্র:

কোম্পানিভিত্তিক খুচরা মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবনা ম্যাট্রিক্স
বিতরণ কোম্পানির নাম [সংক্ষিপ্ত রূপপ্রতি ইউনিটে প্রস্তাবিত বৃদ্ধিবিইআরসি (BERC) কারিগরি কমিটির সুপারিশ
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিNESCO২.০৫ টাকা কোম্পানিগুলোর ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব থাকলেও বিইআরসির কারিগরি দল সার্বিকভাবে গড়ে প্রতি ইউনিট ১.২৫ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। চূড়ান্ত ঘোষণা ১ টাকার কম হবে না বলে আভাস পাওয়া গেছে 
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানিDESCO১.৯৮ টাকা Ju
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডREB১.৭৭ টাকা
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিDPDC১.৫৪ টাকা 
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিWZPDCO১.৩৯ টাকা
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডBPDB০.৮৫ টাকা 
পাইকারি ও সঞ্চালন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব
  • পাইকারি পর্যায় (BPDB): বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ (ইউনিটপ্রতি ১.২০ টাকা থেকে ১.৫০ টাকা) বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে Dhaka Tribune 
  • সঞ্চালন চার্জ (PGCB): পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (PGCB) লোকসান ঠেকাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের চার্জ ১৮ পয়সা বাড়ানোর দাবি করেছে, যার বিপরীতে কারিগরি কমিটি ১৪ পয়সা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে
গ্রাহক পর্যায়ে প্রভাব ও স্তরভিত্তিক (Slab) পরিবর্তনের প্রস্তাব

  • লাইফ লাইন গ্রাহক (০-৭৫ ইউনিট): দেশের প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ নিম্ন আয়ের 'লাইফ লাইন' গ্রাহকদের সুরক্ষায় এই স্তরে দামের কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না
  • মধ্যবিত্ত গ্রাহক (৭৬-২০০ ইউনিট): আবাসিক গ্রাহকদের বিলিং স্ল্যাব পুনর্গঠনের প্রস্তাবের কারণে এই শ্রেণির মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের ওপর সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপ পড়বে 
  • উচ্চ ব্যবহারকারী (৬০০+ ইউনিট): যারা মাসে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হারে মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে 

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সিনিয়র এসইও কনসালটেন্ট ও কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency