অর্থনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬
সার্বিক জাতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারকে আরও কঠিন কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ইতোমধ্যে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা শুরু করেছে।
বুধবার (৩ জুন) আইএমএফ-এর বাংলাদেশ আবাসিক মিশন থেকে发出 করা এক বিশেষ বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্বলতা এবং রাজস্ব আহরণে ক্রমাগত নিম্নমুখিতা দেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধার সৃষ্টি করেছে। এই জটিল বাধা দূর করতে হলে নতুন এবং আগের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আইএমএফ তাদের বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ঋণ সহায়তা চেয়ে আইএমএফ-এর সদর doptore আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান ঋণ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ECF), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (EFF) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (RSF)। এই তিন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথমে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রয়োজন সাপেক্ষে বাড়িয়ে ৫৫৫ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।
তবে বর্তমান নতুন সরকার আগের ওই ঋণ কর্মসূচিকে আর একইভাবে চালিয়ে নিতে চাচ্ছে না। তারা সম্পূর্ণ নতুন একটি কাঠামোগত কর্মসূচির আওতায় ঋণ চাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের বিষয়ে বেশ কিছু প্রগতিশীল অঙ্গীকার পাওয়ায় আইএমএফ নীতিগতভাবে এই নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে সবুজ সংকেত বা অনুমোদন দিয়েছে।
নতুন এই ঋণ কর্মসূচিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে ও ঋণ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আগামী জুলাই মাসে আইএমএফ-এর একটি উচ্চপর্যায়ের মিশন বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে এই মিশনটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবে এবং সংস্কারের নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশীজন ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবে। একই সঙ্গে তারা দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সংস্কারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোও গভীরভাবে মূল্যায়ন করবে।
বিবৃতিতে আইএমএফ আরও উল্লেখ করেছে যে, পূর্ববর্তী ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি ও political প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। ফলে গৃহীত নতুন সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য একদিকে যেমন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, অপরদিকে এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং রূপ নিয়েছে।
তবে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন ঋণ কর্মসূচি চালুর বিষয়ে আইএমএফ-এর সঙ্গে সরকারের নতুন একটি শক্তিশালী সমঝোতা বা নেগোসিয়েশনের বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দুপক্ষই সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজে লাগাতে আগ্রহী বলে সংস্থাটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। আইএমএফ মনে করে, নতুন এই ঋণ কর্মসূচি বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে প্রতিফলিত করবে এবং সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারগুলোকে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবে।
আইএমএফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও মুদ্রাবাজারে যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। ফলে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর এর জন্যই ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার অপরিহার্য।
সংস্থাটির মতে, এই সংস্কারগুলোকে অবশ্যই বাস্তবভিত্তিক ও ব্যবহারযোগ্য করতে হবে এবং দেশের সার্বিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বা ডলার ক্রাইসিস কাটাতে এর সঠিক প্রয়োগ থাকতে হবে।
তবে এই নতুন ঋণের আকার বা ভলিউম ঠিক কত কোটি ডলারের হবে, সে বিষয়ে আইএমএফ-এর এই বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, pennies-এর বড় ধরনের অবমূল্যায়ন (Devaluation) হওয়ার কারণে বাংলাদেশের জন্য নতুন এই ঋণের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বাড়তে পারে।
আপনার মন্তব্য জানান:
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটাতে আইএমএফ-এর এই নতুন ঋণ কর্মসূচি কতটা ভূমিকা রাখবে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন।
দেশ-বিদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক খাত এবং শেয়ারবাজারের নিখুঁত, দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ নিয়মিত পড়তে ভিজিট করুন আপনার নির্ভরযোগ্য তথ্যমাধ্যম
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |