আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬
নির্বাচন জালিয়াতি ও কারচুপির দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চাওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে জনপ্রিয় মার্কিন রাজনৈতিক টকশো ‘মিট দ্য প্রেস’-এর সাক্ষাৎকার মাঝপথে বর্জন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) উইসকনসিনে ধারণকৃত এবং রোববার (৭ জুন, ২০২৬) এনবিসি নিউজে প্রচারিত এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচন এবং ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘व्याপক কারচুপি’ হয়েছে—ট্রাম্পের এমন পুরোনো দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতণ্ডা তৈরি হয়।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন ট্রাম্প দাবি করেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট গণনা শেষ হতে অস্বাভাবিকভাবে কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে, যা তার মতে সুনিশ্চিত জালিয়াতির লক্ষণ। তবে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকার তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের এই দাবি খণ্ডন করে জানান, পোস্টমার্ক করা ব্যালট গণনার আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এটি ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক অংশ।
উপস্থাপকের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে ট্রাম্প পাল্টা অভিযোগ করেন, রাজ্যটির সামগ্রিক গভর্নর নির্বাচনই ‘কারচুপির শিকার’। এ পর্যায়ে ওয়েলকার যখন এই গুরুতর দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট ও দালিলিক প্রমাণ আছে কি না জানতে চান, তখন ট্রাম্প ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং উপস্থাপক ও সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি আক্রমণ করেন।
ওয়েলকারকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, “ওরা অসৎ, তুমিও অসৎ। তোমাদের পুরো সংবাদমাধ্যম জগৎটাই অসৎ। ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানটিও সম্পূর্ণ অসৎ।”
উপস্থাপক নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পেশাদারত্বের সাথে প্রশ্ন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ট্রাম্প আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “তুমি হয় অসৎ, নয়তো চরম বোকা। তুমি খুব ভালো করেই জানো এই নির্বাচনগুলো কারচুপি করা হয়েছে। তোমাদের পুরো নেটওয়ার্কও এই সত্যটা জানে।” এরপর তিনি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের কথিত ‘বিজয়ের’ পুরোনো দাবির পুনরাবৃত্তি করেন; যদিও মার্কিন আদালত এবং একাধিক স্বাধীন তদন্তে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
একপর্যায়ে গণমাধ্যমের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প এনবিসি-কে পুনরায় ‘অসৎ’ আখ্যা দেন এবং সাক্ষাৎকারটি সেখানেই শেষ করার আকস্মিক ঘোষণা দেন। অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে নিজের শরীরে থাকা ল্যাপেল মাইক্রোফোনটি খুলে ছুড়ে ফেলে তিনি বলেন, “এখানেই শেষ করি। আমার যথেষ্ট হয়েছে। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।”
উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকার তখন ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই সাক্ষাৎকারের জন্য তিনি সুদূর উইসকনসিন পর্যন্ত সফর করে এসেছেন। জবাবে ট্রাম্প তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “আমি তোমার সঙ্গে এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যে বসেছিলাম। তোমাকে আমি যথেষ্ট সময় দিয়েছি। তোমাদের সংবাদমাধ্যমের আচরণ ও মানসিকতা দ্রুত ঠিক করা উচিত।”
উল্লেখ্য, সাক্ষাৎকারের শুরু থেকেই ট্রাম্পের চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে যখন ওয়েলকার তাকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল হামলায় জড়িত এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপোনাইজেশন ফান্ড’ থেকে অর্থ সহায়তার বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
উক্ত প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, দাঙ্গাকারীদের মূলত এফবিআই (FBI) এজেন্টরাই ক্যাপিটল ভবনে প্রবেশ করতে উৎসাহিত করেছিল এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ কারাদণ্ডের ভয়েই তারা বাধ্য হয়ে দোষ স্বীকার করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “তারা কেন দোষ স্বীকার করেছে জানেন? কারণ তাদের ভয় দেখানো হয়েছিল যে ১৫ বছর কারাগারে থাকতে হবে। তারা আতঙ্কিত ছিল। আসলে তাদের ভবনের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।” তবে সাধারণ করদাতাদের অর্থ থেকে ওই দাঙ্গাকারীদের আইনি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া নৈতিকভাবে কতটা যুগোপযোগী— can প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
এই হাই-ভোল্টেজ সাক্ষাৎকার মাঝপথে বর্জন এবং ট্রাম্পের মাইক্রোফোন খুলে চলে যাওয়ার ঘটনাটি বিশ্ব রাজনীতি ও গণমাধ্যম পাড়ায় নতুন করে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে এনবিসি নিউজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |