| বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের দুই বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা: অপারেশন নাসর শুরু | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-06-2026 ইং
  • 6321 বার পঠিত
ইসরাইলের দুই বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা: অপারেশন নাসর শুরু | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: অপারেশন নাসর শুরু

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব: ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নাফ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬

ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন নাসর’ নামক নতুন এক সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই অভিযানের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তারা ইসরাইলের অভ্যন্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি কৌশলগত বিমানঘাঁটি—‘নেভাতিম’ এবং ‘तेल নাফ’-এ বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স (মহাকাশ বাহিনী) এই অভিযান শুরু করে। বাহিনীটির জনসংযোগ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে এবং শ্রদ্ধা জানাতে ‘ইয়া হায়দার কাররার’ সাংকেতিক নামে এই বিশেষ সামরিক অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।

ইরানের রাডার কেন্দ্রে হামলার সরাসরি জবাব

আইআরজিসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, এই অভিযানটি কোনো আকস্মিক উস্কানি নয়। সম্প্রতি ইরানের তিনটি পৃথক স্থানে অবস্থিত কৌশলগত রাডার কেন্দ্রগুলোতে ইসরাইল যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, এটি মূলত তারই সরাসরি ও কঠোর জবাব।

বিবৃতিতে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী জানায়, “সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর সাহসী যোদ্ধারা কয়েক মিনিট আগে ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করেছে। এই অভিযানের আওতায় ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নাফের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বিমানঘাঁটির মূল কেন্দ্রগুলোকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।”

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি তেহরানের

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, ইসরাইলের যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাব অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দেওয়া এবং একযোগে বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা বর্তমানে তাদের বাহিনীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য যেকোনো পাল্টা হামলা বা যুদ্ধের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আইআরজিসির সব যুদ্ধ ও অপারেশনাল ইউনিটকে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক (হাই-অ্যালার্ট) অবস্থায় রাখা হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা বিভিন্ন ফ্রন্ট থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের ও বিধ্বংসী পালটা অভিযান চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও পাল্টা বিস্ফোরণ

এই সামরিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত রোববার (৭ জুন), যখন পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এই ঘটনার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে রোববার রাতে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছোড়ে তেহরান।

রোববার রাতের হামলার পর এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, তারা ইসরাইল কর্তৃক যুদ্ধবিরতির এই ধরনের নগ্ন লঙ্ঘন আর কোনোভাবেই সহ্য করবে না।

এদিকে, সোমবার (৮ জুন) সকালে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের পর পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরাইলও। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পাল্টা আঘাতের পর ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এই পাল্টা হামলায় ইরানের অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency