বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি আইনি সহায়তা বা ‘লিগ্যাল এইড’ সেবা দেশের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। দেশের যেসকল নাগরিক বা অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী আর্থিক সংকটের কারণে নিজেদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করার সামর্থ্য রাখেন না, তারা সরকারি টোল-ফ্রি নম্বর ১৬৯-এ কল করে সরাসরি আইনি সহায়তা পেতে পারেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সাভারের বিরুলিয়া খাগান এলাকায় আয়োজিত একটি বিশেষ কর্মশালায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন দাপ্তরিক কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, লিগ্যাল এইড ডিপার্টমেন্টের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার মাধ্যমে সরকার দেশের আদালতগুলোতে ঝুলে থাকা বিপুল পরিমাণ মামলার জট কমানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। মিডিয়েশন বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) মাধ্যমে একদিকে যেমন আদালতে নতুন মামলার ফাইলিং বা রুজু হওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে, ঠিক তেমনিভাবে এক্সজিস্টিং (বিদ্যমান) বা পুরোনো মামলার সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
দেশে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার কোনো সাময়িক বা সংক্ষিপ্ত পথ খুঁজছে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন:
"মিডিয়েশনের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে মামলার ফাইলিং এবং এক্সজিস্টিং মামলা দুই-ই কমেছে। তবে সমাজে ন্যায়বিচার স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেটা সম্পূর্ণ দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ; কোনো সংক্ষিপ্ত পদক্ষেপ নয়। এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতে একটু সময় লাগবে এবং এর জন্য আমাদের বিচারিক ব্যবস্থায় নতুন নতুন আইনি উদ্ভাবন করতে হবে।"
তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন, দেশের আদালতগুলোতে জমে থাকা প্রায় ৪০ লাখ মামলার বিশাল জট ভাঙতে লিগ্যাল এইড এবং আপস-মীমাংসাই হচ্ছে প্রধান সমাধানের পথ।
পেশাদারিত্ব ও গুণগত মান বাড়াতে দেশের আইনজীবীদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা দেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, আইনজীবীদের আন্তর্জাতিক মানের আইনি ও মধ্যস্থতাকারী প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’ এবং একটি নামী ‘ব্রিটিশ ল ফার্ম’-এর সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, বিচার বিভাগ প্রতি বছর বিভিন্ন ফি ও সেবার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করে। অথচ এর বিপরীতে বিচার বিভাগের জন্য বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ২২০০ কোটি টাকা! দেশজুড়ে লিগ্যাল এইড সেবা আরও বেশি কার্যকর ও বিস্তৃত করতে হলে এই খাতে বাজেট বরাদ্দ দ্রুত বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশে লিগ্যাল এইডের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লিগ্যাল এইডের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এখন সেই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আরও বেশি আধুনিক ও সম্প্রসারণ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
| প্রধান বিষয় ও সূচক | বর্তমান আপডেট ও পরিসংখ্যান |
| লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন | সরকারি আইনি সহায়তার টোল-ফ্রি নম্বর ১৬৯। |
| মোট মামলার জট | দেশের আদালতগুলোতে ঝুলে আছে প্রায় ৪০ লাখ মামলা। |
| রাজস্ব বনাম বাজেট | বিচার বিভাগ রাজস্ব দেয় ১৫,০০০ কোটি, কিন্তু বাজেট বরাদ্দ পায় মাত্র ২২০০ কোটি টাকা। |
| আন্তর্জাতিক চুক্তি | আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও ব্রিটিশ ল ফার্মের চুক্তি। |
| ঐতিহাসিক সূচনা | ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে লিগ্যাল এইডের যাত্রা। |
সাভার প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আইন-আদালত, বিচার বিভাগ ও লিগ্যাল এইডের সব খবরের সর্বশেষ আপডেট জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |