| বঙ্গাব্দ

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: ফাঁসির দম্পতির পক্ষে লড়বেন আইনজীবী হাফিজুর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-06-2026 ইং
  • 25671 বার পঠিত
পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: ফাঁসির দম্পতির পক্ষে লড়বেন আইনজীবী হাফিজুর
ছবির ক্যাপশন: পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা

হাইকোর্টে শুরু হচ্ছে রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানি, আইনি লড়াইয়ে ‘স্টেট ডিফেন্স’ হাফিজুর

আদালত ও আইন-শৃঙ্খলা ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নির্মম হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) আইনি লড়াই চালাবেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সলিসিটর উইংয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, গত ১৭ জুন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ দণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে ‘স্টেট ডিফেন্স’ (রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী) নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন। সেই আইনি নির্দেশনার আলোকেই আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তিনি কারাবন্দি আসামি সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্নার পক্ষে উচ্চ আদালতে আইনি ডিফেন্স পরিচালনা করবেন।

আইনের শাসন রক্ষায় ‘স্টেট ডিফেন্স’ এক অনন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব

উচ্চ আদালতে নিয়োগ পাওয়ার পর নিজের আইনি প্রস্তুতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে কথা বলেছেন আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। তিনি দেশের ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) বিধান উল্লেখ করে বলেন, "বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো আসামিকে নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলে হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন বা এফিডেভিট ছাড়া তা কার্যকর করা যায় না, যা বিচারিক পরিভাষায় ‘ডেথ রেফারেন্স’ (Death Reference) হিসেবে পরিচিত। আর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের স্বার্থে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির যদি নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকে, তবে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া আমাদের আইনি ব্যবস্থার একটি মৌলিক অংশ। সেই সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ হিসেবেই আমাকে এই মামলায় ডিফেন্স হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।"

মামলার বর্তমান অবস্থা এবং নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আরও জানান, "রামিসা হত্যা মামলার যাবতীয় নথি ও শুনানির মূল উপাদান ‘পেপারবুক’ (Paperbook) ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আমি তা পর্যালোচনা করার জন্য হাতে পেয়েছি। এখন আমার প্রধান ও প্রথম কাজ হলো এই সুবিশাল পেপারবুকটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্টাডি (পর্যালোচনা) করা। স্টাডি ও নোট তৈরির কাজ শেষ করে শুনানির জন্য আমি অত্যন্ত দ্রুত সময়ে আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করব।"

সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনগত ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা

আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের কৌশল প্রসঙ্গে হাফিজুর রহমান বলেন, "আমাকে যেহেতু আইনগতভাবে একিউজডের (আসামির) পক্ষে ডিফেন্ড করার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট (নিয়োগ) দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আমাকে পুরোপুরি মামলার এভিডেন্সের (সাক্ষ্য-প্রমাণ) ওপর নির্ভর করেই আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। নিম্ন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা কী সাক্ষ্য দিয়েছেন, জবানবন্দি ও জেরা কীভাবে হয়েছে—সেগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের জাজমেন্ট বা রায়ের আইনি ভিত্তি কতটা মজবুত, সেটিও আমাদের দেখতে হবে। পরবর্তীতে অনারেবল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন সমস্ত নথিপত্র ও প্রমাণাদি অ্যাসেসমেন্ট (মূল্যায়ন) করে এই ফাঁসির আদেশের ওপর চূড়ান্ত জাজমেন্ট দেবেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, "মামলার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর যদি আইনগতভাবে দেখা যায় যে, নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডে কোনো বড় ধরনের আইনগত ত্রুটি বা পদ্ধতিগত বিচ্যুতি রয়েছে, তবে অনারেবল হাইকোর্ট তা কারেক্ট (সংশোধন বা সাজা হ্রাস) করতে পারেন। আর যদি সব তথ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট ও বিচারিক প্রক্রিয়া শতভাগ সঠিক থাকে, তবে উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায়টিই অ্যাফার্ম (বহাল) করে দেবেন।" এর আগে সুপ্রিম কোর্টের ২৯ নম্বর কোর্টে এই নিয়োগের প্রাথমিক অর্ডার হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সলিসিটর উইংয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও জিও সম্পন্ন হওয়ার পর হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিপক্ষের আপিলের যৌথ শুনানি শুরু হবে।

ট্রাইব্যুনালের সেই কঠোর রায়

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন অবুঝ শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে এই মামলার প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে দণ্ডবিধির ৩০২ ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়ার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত মূল আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। নিম্ন আদালতের এই ফাঁসির রায়টি অনুমোদনের জন্যই পেপারবুক আকারে এখন হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

এক নজরে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বর্তমান আইনি চিত্র (জুন, ২০২৬)

  • ঘটনার স্থান ও ভিকটিম: ঢাকার পল্লবী থানা এলাকা; শিশু রামিসা (ধর্ষণ ও হত্যা মামলার শিকার)।

  • দণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতি: মূল আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (উভয়েই নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।

  • হাইকোর্ট বেঞ্চ: বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার দ্বৈত বেঞ্চ।

  • রাষ্ট্রের ডিফেন্স আইনজীবী: সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান (সলিসিটর অনুবিভাগ কর্তৃক নিযুক্ত)।

  • নিম্ন আদালতের রায়: ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন কর্তৃক গত ৭ জুন মৃত্যুদণ্ড ও মোট ৭ লাখ টাকা জরিমানা।

  • বর্তমান আইনি ধাপ: পেপারবুক তৈরি সম্পন্ন; ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জোর প্রস্তুতি।


বিশেষ প্রতিনিধি: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের সব ডেথ রেফারেন্স মামলার কজলিস্টের লাইভ আপডেট, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের চাঞ্চল্যকর মামলার রায়সমূহ, দেশের মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা খবরের দ্রুত ও নিখুঁত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency