ক্রীড়া উপাখ্যান | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬
ঘড়ির কাঁটা সচল ছিল, চেনা নিয়মেই ঘুরছিল পৃথিবী। শুধু নরওয়ে দেশটাই যেন কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিল। রাজধানী অসলোর যে ব্যস্ত রাস্তায় কিছুক্ষণ আগেও ট্রাফিকের চিরচেনা কোলাহল ছিল, সেখানে নেমে এসেছিল এক অদ্ভুত, অপার্থিব নীরবতা। রেস্তোরাঁর কর্মীরা হাতের কাজ ফেলে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন টেলিভিশনের সামনে। কোনো হাসপাতালের অপেক্ষাকক্ষে ছটফট করতে থাকা রোগীর স্বজনদের চোখও আটকে ছিল টিভির পর্দায়। কেউ বাড়িতে সোফায় কুঁকড়ে, কেউ বা শহরের বড় জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে। আর যাদের সেই সুযোগটুকুও নেই, তারা পথ চলতে চলতে প্রতি সেকেন্ডে মোবাইল ফোনে দেখে নিচ্ছেন লাইভ স্কোর।
মাঠে নেমেছিল নরওয়ে। দীর্ঘ ২৮টি বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ‘বিশ্বকাপে’ ফিরে আসা দেশটির কাছে এটি শুধু ৯০ মিনিটের একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর ২০২৬ সালে এসে আবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার টিকিট পেয়েছে নরওয়ে। মাঝের এই দীর্ঘ সময়ে দেশটির একটি আস্ত প্রজন্ম বড় হয়েছে শুধু পুরোনো বিশ্বকাপের রূপকথার গল্প শুনে। আরেকটি প্রজন্ম চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করেছে বছরের পর বছর। অবশেষে ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপে এসে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। বিশ্বকাপের ময়দানে আবার সগর্বে উড়েছে নরওয়ের লাল-সাদা-নীল পতাকা।
ফুটবল যখন এই পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তা আর কেবল ২২ জন খেলোয়াড়ের খেলা থাকে না। ৯০ মিনিটের জন্য সেটি হয়ে ওঠে একটি গোটা জাতির সবচেয়ে বড় সম্মিলিত অনুভূতি। একই সময়ে লাখো মানুষ তাকিয়ে থাকে একটি বলের দিকে। একই পাসে উত্তেজিত হয় পুরো দেশ, প্রতিপক্ষের একই শটে বুক কেঁপে ওঠে কোটি ভক্তের। আর বল জালের ঠিকানা খুঁজে নিলে সম্পূর্ণ অচেনা মানুষও একে অন্যকে পরম আবেগে জড়িয়ে ধরে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্যগুলো সব সময় স্টেডিয়ামের ভেতরে দেখা যায় না। কখনো কখনো তা দেখা যায় হাজার মাইল দূরের অসলোর ফাঁকা রাস্তায়, কোনো ছোট শহরের শান্ত ক্যাফেতে, হাসপাতালের করিডরে কিংবা একটি মধ্যবিত্ত ঘরের ড্রয়িংরুমে— যেখানে তিন প্রজন্মের মানুষ পাশাপাশি বসে একটি বলের গতিপথ দেখছিল। ঘরের প্রবীণ মানুষটি এখনো রোমন্থন করেন ১৯৯৮ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ, যেখানে ব্রাজিলকে হারিয়ে অবিশ্বাস্য এক রাত উপহার দিয়েছিল নরওয়েজিয়ানরা। তাঁর পাশে বসা সন্তানটি তখন ছিল নেহাতই শিশু, আর আজ তাঁর নাতি প্রথমবার দেখছে নিজের দেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে। তিন প্রজন্মের বয়স আর স্মৃতি আলাদা হলেও, সেদিন তাদের স্বপ্ন ছিল একটাই— নরওয়ে।
আর এই পুরো স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে যার নাম জড়িয়ে ছিল, তিনি আর কেউ নন— আর্লিং ব্রট হলান্ড (Erling Haaland)। ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গোলের পর গোল করা এই ভয়ংকর স্ট্রাইকারটিই ছিল পুরো নরওয়ের আশার আলোকবর্তিকা। মাঠে তাঁর প্রতিটা দৌড়ের সঙ্গে যেন দৌড়েছে নরওয়ের কোটি মানুষের হৃৎস্পন্দন।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে একের পর এক কঠিন বাধা পেরিয়ে, গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের বৈতরণী পার হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল নরওয়ে। প্রতিটি জয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটিকে নিয়ে স্বপ্নটি আরও বড় হচ্ছিল। পুরো দেশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, হলান্ডের এই অপ্রতিরোধ্য যাত্রা হয়তো আরও বহুদূর যাবে।
কিন্তু ফুটবল ঠিক তখনই সবচেয়ে বেশি নির্মম ও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে, যখন স্বপ্ন আকাশচুম্বী হয়। একটি ভুল পাস, একটি সূক্ষ্ম অফসাইড, একটি পেনাল্টি কিংবা গোলবারে লেগে বল ফিরে আসার মতো মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি মুহূর্ত চার বছরের কঠোর অপেক্ষাকে এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ বাঁশি যখন বাজল, তখন মাঠের জায়ান্ট স্ক্রিনের স্কোরবোর্ডে লেখা— নরওয়ে ১ : ইংল্যান্ড ২।
বিশ্বকাপের স্বপ্ন সেখানেই শেষ। রেফারির শেষ বাঁশির সাথে সাথেই কেউ নিঃশব্দে ঘরের টেলিভিশন বন্ধ করে দিলেন, কোনো শিশু কান্নায় ভেঙে পড়ল, আর কোনো বৃদ্ধ স্তব্ধ হয়ে একই জায়গায় বসে রইলেন। মাঠের ফুটবলারদের মতো গ্যালারি বা টিভির ওপাড়ের দর্শকেরাও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে সব শেষ হয়ে গেছে।
ধীরে ধীরে ম্যাচ শেষ হলো, আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরল দেশটা। অসলোর রাস্তায় আবার চাকা ঘুরল গাড়ির, রেস্তোরাঁয় ব্যস্ততা শুরু হলো, মানুষ ফিরে গেল নিজের চেনা পরিমণ্ডলে। সবকিছু আবার আগের মতোই হয়ে গেছে। তবে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে কিন্তু হেরেও জিতেছে। তারা দেশটির একটি নতুন প্রজন্মকে বুকভরে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। হলান্ডের এই দল এমন এক গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি তৈরি করেছে, যার ওপর ভর করে হয়তো কোনো এক বাবা তাঁর সন্তানকে গর্ব করে বলবেন— “জানো, ২০২৬ সালে আমরা আবার বিশ্বকাপে ফিরেছিলাম। আমরা বিশ্বসেরা হওয়ার বিশ্বাস রেখেছিলাম, আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম।”
বিশ্বকাপ থেকে নরওয়ে বিদায় নিয়েছে ঠিকই, তবে একটি দেশের ফুটবল স্পিরিট চিরকালের জন্য জেগে উঠেছে। পৃথিবী কোনো ফুটবল ম্যাচের জন্য থেমে থাকে না। সূর্য ওঠে, সময় চলে, জীবনও আপন গতিতে এগিয়ে যায়। তবে বিশ্বকাপের সেই ৯০টি মিনিট নরওয়ের মানুষের কাছে আজীবন মনে হবে— সেদিন সত্যিই যেন সবকিছু থমকে গিয়েছিল একটি বলের পেছনে!
২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান: ১৯৯৮ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নরওয়ে।
অসলোর রাজপথে নীরবতা: নরওয়ের ম্যাচ চলাকালীন গোটা দেশের রাস্তাঘাট, অফিস, রেস্তোরাঁ থমকে গিয়েছিল আবেগে।
আশার প্রতীক হলান্ড: পুরো টুর্নামেন্টে নরওয়েজিয়ানদের স্বপ্নের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ: দুর্দান্ত খেলে কোয়ার্টারে উঠলেও ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় নরওয়ে।
নতুন ফুটবলের উত্থান: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও এই টুর্নামেন্ট নরওয়ের নতুন প্রজন্মকে ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে।
খেলাধুলা ও ফিফা বিশ্বকাপ ডেস্ক | ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬, নরওয়ে ফুটবল দল লাইভ আপডেট, আর্লিং হলান্ড বিশ্বকাপ গোল, ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল ও অসলো ফুটবল উন্মাদনা সেল
ইংল্যান্ডের কাছে হেরে নরওয়ে বিদায় নিলেও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে আর্লিং হলান্ড কত নম্বরে রইলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের লাইনআপ কেমন হলো এবং ফিফা বিশ্বকাপের প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |