| বঙ্গাব্দ

আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত কমান্ড; হরমুজ প্রণালি বন্ধের রহস্য উন্মোচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 15-07-2026 ইং
  • 10066 বার পঠিত
আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত কমান্ড; হরমুজ প্রণালি বন্ধের রহস্য উন্মোচন
ছবির ক্যাপশন: আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত কমান্ড

শত্রুর আগ্রাসন ঠেকাতে ইরানের বহুস্তরীয় ‘ডিফেন্স লাইন’; কেন দক্ষিণেই সীমাবদ্ধ মার্কিন হামলা? বিশ্লেষণ ইরানি সামরিক বিশ্লেষকদের

আন্তর্জাতিক ও সামরিক ডেস্ক | মেহের নিউজ এজেন্সি

সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬

ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীর নতুন করে বিমান হামলা এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ (Islamabad Accord) চুক্তি লঙ্ঘনের পর পারস্য উপসাগরের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কর্তৃক বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz) পুনরায় সম্পূর্ণ বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর, দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে ইরানের নিজস্ব প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সমন্বিত যুদ্ধকৌশল নিয়ে এক নতুন চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যম ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর একীভূত কমান্ড: সমন্বিত সামরিক শক্তি

ইরানি সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ইরানের সেনাবাহিনী (আর্টেশ) এবং বিশেষ এলিট ফোর্স আইআরজিসি (IRGC) একটি সুনির্দিষ্ট ও একীভূত কমান্ড কাঠামোর (Unified Command Structure) অধীনে নিখুঁতভাবে কাজ করছে। এর ফলে প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো বাহিনীকে এখন আর আলাদা আলাদা সামরিক শাখার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না; বরং তারা এক শক্তিশালী সমন্বিত সামরিক শক্তির ধাক্কা খাচ্ছে।

বিজ্ঞানসম্মত প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে ইরানের কাছে রয়েছে:

  • গতিশীল রণকৌশল: অতি দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌযান (Speedboats)।

  • রক্ষণাত্মক সাবমেরিন: পারস্য উপসাগরের অগভীর পানিতে চলাচলে সক্ষম আধুনিক সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ।

  • ড্রোনের ঝাঁক: দূরপাল্লার সুইসাইড ও নজরদারি ড্রোন।

  • উপকূলীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল: হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ জলপথ লক্ষ্য করে মোতায়েন করা বহুস্তরীয় উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

এই সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি অত্যাধুনিক ও সম্পূর্ণ নিজস্ব সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায়, যেকোনো আকস্মিক বিমান বা নৌ-আক্রমণের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিকভাবে একটি দুর্ভেদ্য ও বহুস্তরীয় প্রতিরোধ (Multi-layered Defense) গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

আইআরজিসি’র পাশে সেনাবাহিনী: যৌথ তথ্য প্রচারের কৌশল

সম্প্রতি ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির উচ্চপদস্থ মুখপাত্রদের মধ্যে এক হাই-প্রোফাইল যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে প্রধানত উভয় বাহিনীর মধ্যকার মাঠপর্যায়ের সমন্বয়, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যম কৌশল (Media Strategy) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

🤝 যৌথ বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তসমূহ:
• সন্ত্রাসী তকমা প্রতিরোধ: আইআরজিসি-কে পশ্চিমা বিশ্বে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করার আন্তর্জাতিক প্রচারণার বিরুদ্ধে ইরানের সেনাবাহিনী পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছে।
• যৌথ যোগাযোগ উইং: সশস্ত্র বাহিনীর আসল রণকৌশল ও সাফল্যের খবর বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সমন্বিত তথ্য প্রচার এবং যৌথ প্রেস-উইং চালুর সমঝোতা।
• অভিন্ন লক্ষ্য: ইসলাম, ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সব সশস্ত্র বাহিনী একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ।

২০১১-১২ সালেই চূড়ান্ত হয়েছিল হরমুজ প্রণালি বন্ধের ব্লুপ্রিন্ট

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত আকস্মিক বা নতুন কোনো পরিকল্পনা নয় বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি।

একটি বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই সাবেক আইআরজিসি প্রধান দাবি করেন, ২০১১-১২ সালেই তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি ও গোপন নির্দেশে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অচল ও বন্ধ করে দেওয়ার একটি অত্যন্ত বিস্তৃত ও নিখুঁত ব্লুপ্রিন্ট (সামরিক রূপরেখা) তৈরি করা হয়েছিল। ওই গোপন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও চূড়ান্তকরণের পেছনে আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর তৎকালীন শীর্ষ কমান্ডারদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও কৌশলগত স্বাক্ষর ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র কেন কেবল ‘দক্ষিণাঞ্চলে’ হামলা সীমাবদ্ধ রাখছে?

ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই অনড় পদক্ষেপ মূলত দেশটির নিজস্ব সফল প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতারই জেনুইন বহিঃপ্রকাশ। প্রতিরোধ তত্ত্বের (Deterrence Theory) সহজ সমীকরণ টেনে তারা বলেন, প্রতিরোধ তখনই শতভাগ কার্যকর হয় যখন প্রতিপক্ষ স্পষ্ট বুঝতে পারে যে, আক্রমণের আর্থিক ও জানমালের ক্ষতি সম্ভাব্য সামরিক বা রাজনৈতিক লাভের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।

এই বিশ্লেষণে ইরানের নীতিনির্ধারকেরা একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এনেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি সত্যিই ইরানের সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চায়, তবে তারা কেন তাদের আক্রমণগুলো কেবল ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল (যেমন বন্দর আব্বাস বা কিশ দ্বীপ) ও বন্দরগুলোতে সীমাবদ্ধ রাখছে? কেন তারা তেহরান বা ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে পারছে না?

ইরানি বিশ্লেষকদের দাবি, ইরানের মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুত এবং দুই বাহিনীর সমন্বিত শক্তিশালী প্রতিরোধের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরিধি বাড়াতে ভয় পাচ্ছে। সংঘাতের পরিধি বাড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে। সে কারণেই পেন্টাগন বৃহত্তর স্থল যুদ্ধে জড়াতে চরম অনাগ্রহী।

সংবাদমাধ্যমের বিশেষ নোট: তবে এসব দাবি ও সামরিক বিশ্লেষণ মূলত ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র ও সামরিক মহলের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। যুদ্ধের এই উত্তপ্ত সময়ে স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা বা সামরিক সক্ষমতার সঠিক মাত্রা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হরমুজ প্রণালির এই অবরোধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency